চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) নিজস্ব বিদ্যুৎকন্দ্র থেকে উত্পাদিত বিদ্যুত্ নিয়ম ভেঙে সংলগ্ন বাজারের দোকানপাট ও আবাসিক ভবনে সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) অনুমতি নেই বলে জানা গেছে। ফলে এই বিদ্যুত্ বিক্রির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাঙ্গাদিয়া বাজারের শতাধিক দোকান ও বাসাবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সিইউএফএলের বিদ্যুত্ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব সংযোগ থেকে প্রতি মাসে দুই লাখ টাকার বেশি বিদ্যুত্ বিল আদায় হয় বলে জানা গেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিল বকেয়া রেখেও বিদ্যুত্ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিইউএফএল থেকে তিনটি মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুত্ সংযোগ নেওয়া হয়েছে। পরে ঐ সংযোগ ব্যবহার করে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও বসতঘরে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, সিইউএফএলের কারখানার নিজস্ব বিদ্যুত্ চাহিদা পূরণের জন্য ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে। সেখানে দুটি স্টিম টারবাইন জেনারেটর (এসটিজি) ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হয়। উত্পাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরী বলেন, প্রতিটি ইউনিটের উত্পাদন ক্ষমতা ১২ মেগাওয়াট। বর্তমানে ৮-১০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড-১ ও ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড-২-এর মধ্যেও বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয়।
ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুত্ ক্রয়-বিক্রয়ের নীতিমালা-২০০৭ অনুযায়ী, নিজস্ব ব্যবহারের জন্য স্থাপিত বিদ্যুেকন্দ্রের অতিরিক্ত বিদ্যুত্ বাইরে সরবরাহ বা বিক্রি করতে হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রয়োজন।
সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগে থেকেই এই ব্যবস্থা চলে আসছে। কোন নিয়মে এবং কীভাবে এটি শুরু হয়েছে, তা তিনি জানেন না। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

