ধর্মীয় পরিচয়ের সংকটে আটকে আছে যুবকের শেষযাত্রা, মরদেহ হিমঘরে

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪৯

নারায়ণগঞ্জে শুভ (৩০) নামে এক যুবককে সম্প্রতি গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নগরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডিবি পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে হত্যায় অংশ নেওয়া সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যার ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দীও দিয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হলেও নিহতের ধর্মীয় পরিচয় মা-বাবার ভিন্ন দাবির প্রেক্ষিতে আটকে গেছে নিহত শুভর শেষযাত্রা। এ নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) শুভর মরদেহ কোন রীতিতে দাফন বা সৎকার হবে সে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল আদালতের। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদার আদালত এ আদেশ দেন।

এদিন বিকেলে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের মায়ের দাবি, মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করায় ছেলে শুভ ওরফে বিল্লালকে দাফন করা হবে।

অন্যদিকে বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, ছেলে হিন্দু ধর্মে জন্মেছে, তাই তাকে চিতায় দাহ করতে চান তিনি। বাবা-মায়ের এমন মতবিরোধে খুন হওয়ার ৬ দিন পরও একটি লাশবাহী গাড়িতে সদর মডেল থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে শুভর মরদেহ রাখা হয়েছে।

শুভ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান বলেন, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের (মুসলমান হওয়ার পর এ নাম রাখেন) ২০০৩ সালে তালাক হয়। বাবা-মায়ের তালাকের সময় শুভর বয়স ছিল ৪ বছর। ওই সময় শুভ, তার মা, এক ছোট ভাই ও ছোট এক বোন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। শুভ এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘বিল্লাল’ নাম নেন এবং মুসলিম রীতি অনুযায়ী কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী জুথিও মুসলিম এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে।

শুভর ভাই ইব্রাহিম বলেন, তারা দুই ভাই একসঙ্গে মুসলমান হন। সুন্নতে খাতনা করেন এবং নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার রওজাতুস সালেহীন নামে একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন।

তবে বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, শুভ হিন্দু ধর্মে জন্মেছেন। তাই তিনি ছেলের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করতে চান।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, শুভ হিন্দু না মুসলিম এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত এ ব্যাপারে পরে সিদ্ধান্ত জানাবে জানিয়ে মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষণের আদেশ দিয়েছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া হকার্স মার্কেটের পেছনের সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার গুলিবিদ্ধ ও ছুরিকাঘাতে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা এবং মরদেহের পাশ থেকে ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর এক সহযোগীকে দিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়। পরে তাকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত শুভর বিরুদ্ধেও থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি