কুষ্টিয়ার কারাগার থেকে পালানো ১২৪ মামলার আসামি ঢাকায় গ্রেপ্তার

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:২৮

কুষ্টিয়া কারাগার থেকে পালানো ১২৪ মামলার আসামি মো. আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আনিছুরকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে সুকৌশলে আনিছ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আদালতে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।’

ওসি আরও জানান, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বছরের ৭ আগস্ট কুষ্টিয়া জেলা কারাগার ভেঙে বেশ কিছু কয়দি পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে এই আনিছুর রহমানও ছিল। বুধবার দিবাগত রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ফের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৬ সালে আলাউদ্দিননগরে মূল কার্যক্রম শুরু করার পর কয়েক বছরের মধ্যে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা, ঝিনাইদহসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় শাখা খোলেন আনিছুর রহমান। সেসব শাখায় গ্রাহকদের ‘জমার দ্বিগুণ টাকা ফেরত’ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মেয়াদে মোটা অঙ্কের টাকা জমা নেওয়া হতো।

একপর্যায়ে সাধারণ মানুষের প্রায় ২০০ কোটি টাকা জমা হলে আনিছুর রহমান দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি, বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল সম্পদ গড়ে তোলেন। ২০২৩ সালের শুরুতে মাঠকর্মী ও গ্রাহকেরা বিষয়টি টের পেয়ে লগ্নিকৃত টাকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। অবস্থা বেগতিক দেখে ওই বছরের নভেম্বরে অফিসে তালা ঝুলিয়ে আনিছুর লাপাত্তা হয়ে যান।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার প্রায় ১২৪টি মামলা হয়। এসব মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। পরে ১২টি মামলায় তার বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনিছুর রহমানকে প্রথমবার গ্রেপ্তার করে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে আরও ১০৪ আসামির সঙ্গে আনিছুরও পালিয়ে যান বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি