ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

রিজওয়ান-ইমামের মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে ব্যাংক হিসাব

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:২৯

ইংল্যান্ড সফরে ব্যর্থতার পর এবার বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হক। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টে হারের পর দেশে ফেরত পাঠানো এই দুই ক্রিকেটারের আর্থিক লেনদেন, ব্যাংক হিসাব, যোগাযোগ এবং ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে পাকিস্তানের জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি।

জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি লাহোরে সংস্থাটির কার্যালয়ে দুই ক্রিকেটার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। একই সঙ্গে ইংল্যান্ড সিরিজের আগে ও পরের আর্থিক কর্মকাণ্ড ও ব্যাংক হিসাব গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কোনো সন্দেহজনক অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে বেআইনি অর্থ পাওয়া গেছে কি না, তা বের করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

শুধু আর্থিক লেনদেন নয়, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমের তথ্য বাইরে ফাঁস হওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার লাহোরের জোহর টাউনে জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির কার্যালয়ে হাজির হন ইমাম ও রিজওয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা দুই ক্রিকেটারের কাছে ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে জানতে চান। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ, ইংল্যান্ড সফরে অনুশীলন এবং ম্যাচকে কেন্দ্র করে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হয়। তবে নিজেদের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে দেওয়ার জন্য তদন্তকারীদের কাছে আরও সময় চেয়েছেন রিজওয়ান ও ইমাম।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রিজওয়ান বা ইমামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি জাতীয় সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। কোনো ধরনের অপরাধে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণও এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ইংল্যান্ড সফরে মাঠের পারফরম্যান্সও তাঁদের পক্ষে ছিল না; চার ইনিংসে রিজওয়ান করেন মাত্র ৬১ রান এবং ইমাম লর্ডস টেস্টে চোটের কারণে ব্যাট না নামায় তার চোটের গুরুত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উপহাসের সৃষ্টি হয়। এদিকে ফিটনেস পরীক্ষার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১-এ খেলার সুযোগও হারিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৬ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে নির্বাচন কমিটির কাছে পিসিবি আগেই লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছিল।

ইত্তেফাক/এমএসআর