ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার পর পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের পথ খুলেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও নতুন শহর গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন শেষে হাবাসপুর কে, রাজ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আগে আপনারা কখনো ভোট দেননি, সেজন্য এতদিন পদ্মা ব্যারেজ হয়নি। কারণ বাংলাদেশে এই প্রথম আমরা দেখেছি অনেকদিন পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আপনারা আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন।’
তিনি বলেন, পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু হয়েছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। ফারাক্কা সমস্যাকেও তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার উদ্যোগে ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে পদ্মা ব্যারেজ, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বাংলাদেশের বদ্বীপ পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, আগের সময়ে বড় বড় প্রকল্প হয়েছে, কিন্তু এর পাশাপাশি দুর্নীতিও হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষার জন্য জনগণ আবার একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। তারেক রহমান জনপ্রিয়তার দিক থেকে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন দাবি করে তিনি বলেন, তিনি যা বলেন তা করেন। তিনি কথামালার মধ্যে থাকেন না। গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে তিনি জনগণের সঙ্গে সমব্যথী হয়েছেন, দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমরা গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি—সব ক্ষেত্রে টেকসই সমাধানের পথে যাচ্ছি।
দেশের বেকারত্বকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে। তারেক রহমানের সময়ে এক কোটি বা তারও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিতুমীর বলেন, দেশের অবহেলিত অঞ্চলগুলোতে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জানুয়ারি থেকে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে। কর্মসংস্থানমুখী ও কর্মসংস্থান উপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি আগের পরিকল্পনার মতো নয়। নতুন চিন্তা ও নকশায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ডিজাইন ফেজের কাজ শুরু হবে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারেজের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি সরবরাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন শহর গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনার কৌশল হবে অত্যাধুনিক। পানামা খালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পানামা খালের চেয়ে বড় কায়দায় কাটা কৌশল সম্পন্ন পদ্মা ব্যারেজ হবে। সবশেষে তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে যে সুযোগ তৈরি করেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

