কাশ্মীরে স্কুল খুলেছে, শিক্ষার্থী নেই

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:১৭

দুই সপ্তাহ টানা ঘরবন্দি থাকার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর। গতকাল সোমবার স্কুল ও সরকারি অফিস খুললেও স্বত:স্ফূর্ততার অভাব দেখা গেছে। স্কুলে হাজিরা নগন্য। কোনো কোনো স্কুলে শিক্ষার্থীই আসেনি। সরকারি অফিসেও হাজিরা নামমাত্র। কারফিউ উঠলেও মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনীর কড়া নজরদারি রয়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট এখনো বন্ধ। গ্রেফতার হওয়া রাজনীতিকরা এখনো ছাড়া পাননি। সবমিলিয়ে উপত্যকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ নিয়ে গতকাল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

স্কুল খুললেও নেই শিক্ষার্থী

শনিবার কাশ্মীরের প্রশাসন জানিয়েছিল, সোমবার থেকে সব সরকারি অফিসে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হবে। উপত্যকার প্রায় ২০০ স্কুলের তালা খুলবে। গতকাল দেখা যায়, সরকারি অফিসে কর্মীদের হাজিরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। তার চেয়েও নগণ্য সাধারণ মানুষের উপস্থিতি। হাতে গোনা দুই-একজন কাজে এসেছিলেন কিছু অফিসে। এর বাইরে সিংহভাগ অফিসেই ছিল সুনসান নীরবতা।

স্কুলগুলোর অবস্থা আরো শোচনীয়। শ্রীনগরের ৯০০ স্কুলের মধ্যে খুলেছে ১৯৬টি। কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অত্যন্ত কম। শিক্ষকদের হাজিরাও পর্যাপ্ত ছিল না। অনেক স্কুলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। একজন শিক্ষার্থীও আসেনি এমন স্কুলও রয়েছে কয়েকটি। তবে বেসরকারি স্কুল খোলেনি। গত দু’দিনে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের জেরে অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে রাজি হননি। বার্তা সংস্থা পিটিআই জানায়, কেবল বেমিনাতে পুলিশ পাবলিক এবং কিছু কেন্দ্রীয বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বেশি ছিল। শ্রীনগরের ডেপুটি পুলিশ কমিশানার শাহিদ ইকবাল জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার পর একাংশ স্কুল খুলে দেওয়া হয়েছিল। অভিভাবকদের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি, যেসব স্কুল খুলেছে, সেখানে নির্ভয়ে সন্তানদের পাঠান। নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের। কিন্তু সেই আশ্বাস এবং আবেদনে যে তেমন কাজ হয়নি, উপস্থিতির হারই এর প্রমাণ।

জম্মু-কাশ্মীর শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে বলে প্রশাসন যতোই দেখানোর চেষ্টা করুক, বিচ্ছিন্ন প্রতিবাদ-বিক্ষোভ যে চলছেই তার প্রমাণ মিলেছে রবিবার রাতেও। শ্রীনগরে রাতভর দফায় দফায় সঙ্ঘর্ষ হয়েছে নিরাপত্তা কর্মী ও বিক্ষোভকারীদের। এর জেরে শ্রীনগরের বেশ কিছু এলাকায় ফিরে এসেছে কারফিউর মতো পরিস্থিতি। মোবাইল-ইন্টারনেট চালু করেও বহু জায়গায় ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। প্রশাসনের দাবি, উপত্যকার এক তৃতীয়াংশ ল্যান্ডলাইন খুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও এর সঙ্গে বাস্তবের খুব একটা মিল খুঁজে পাননি কাশ্মীরিরা।

অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক অমিত শাহের

জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং আইবি প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ধাপে ধাপে সেখানকার নিরাপত্তা বেষ্টনী তুলে দেওয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ নিয়েই গতকাল বিকেলে বৈঠকে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অজিত দোভাল কাশ্মীরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ মমতার

গতকাল সোমবার ‘বিশ্ব মানবিকতা দিবস’ উপলক্ষে টুইটার বার্তায় মমতা ব্যানার্জি বলেন, কাশ্মীরের মানুষদের অধিকার পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই মমতা ব্যানার্জির এইটুুইটের তীব্র নিন্দা করছে বিজেপি। -বিবিসি, এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকা