পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার ভোগান্তি লাঘবে পুনরায় চালু হবে আরিচা ঘাট

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ২২:৩৭

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে ভোগান্তি লাঘবে পুনরায় চালু হবে আরিচা ঘাট। এমন সুসংবাদ জানিয়েছে বিআইডব্লিওটিএ কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ঘাট এলাকা পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিওউটিএ চেয়ারম্যান এম মাহবুব-উল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, 'আরিচা ফেরি ঘাট নির্মাণের জন্য ৩শ' ৮০কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বেসিক্যালি হাইওয়ে এবং রেলওয়ের যাত্রীদের সহজ যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে এ ঘাটটি চালু করা হবে।'

দীর্ঘদিন যাবত পাটুরিয়ায়-দৌলতদিয়া ঘাটে সৃষ্ট যানজটে ভোগান্তি এড়াতে আরিচায় পুনরায় বিকল্প ফেরি ঘাট চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন ভুক্তভোগী পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা। এ নৌ-পথে লঞ্চ, স্পিডবোট, কার্গো চলাচল অব্যাহত থাকলেও কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। আরিচায় ফেরি ঘাট চালু হলে পারাপারের জন্য ঘাটে অপেক্ষা, বঙ্গবন্ধু ব্রিজের ওপর বাড়তি চাপ হ্রাসের পাশাপাশি যাত্রী ও যানবাহন শ্রমিকদের কষ্ট লাঘবসহ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও একধাপ অগ্রগতি হবে বলে বিভিন্ন মহল মত দিয়েছেন।

জানা যায়, রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করতে ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর আরিচা-নগরবাড়ী (কাজিরহাট) রুটের ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে শুধুমাত্র দৌলতদিয়া রুটে ফেরি সার্ভিস চালু থাকে। সময়ের প্রয়োজনে ২০০২ সালে আরিচা থেকে ফেরিঘাট স্থানান্তর করা হয় প্রায় ৭ কিলোমিটার ভাটিতে পাটুরিয়ায়। এতে আরিচা ঘাট গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে। 

যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করার লক্ষ্যে আরিচা থেকে ফেরি ঘাট পাটুরিয়ায় স্থানান্তর করলেও বর্তমানে সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি হচ্ছে। নদীতে নাব্যতা সংকট, ভাঙ্গন, ঘনকুয়াশা ও বর্ষা মৌসুমের প্রবল স্রোতের বিপরীতে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যহত হওয়াসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই আছে। এতে, পাটুরিয়া ঘাটে যানজট ও যাত্রী সাধারনের ভোগান্তি নিত্য দিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:  তিনদিনের সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ঢাকায়

ঘাট কর্তৃপক্ষ যাত্রী দুর্ভোগ লাগবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরিতে বাস-কোচ পারাপারের সুযোগ করে দিলেও ঘাটে এদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়। অপরদিকে, সাধারণ পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে পারাপারের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয় তিন থেকে চারদিন পর্যন্ত। এতে ঘাট সংশ্লিষ্ট সকলেই নিয়মিত অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। চলতি বর্ষায় নদীতে প্রবল স্রোতে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে চলা প্রতিটি ফেরি মূল চ্যানেল ছেড়ে অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করায় সময় নষ্ট ও ফেরির টিপ সংখ্যাও হ্রাসের ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় আরিচা থেকে দৌলতদিয়া ফেরি চলাচল অনেকটাই সহজ ও সুবিধা হবে বলে নৌ-যান চালকরা মনে করছেন।

এছাড়া, আরিচায় সার্ভিস চালুকালে স্থাপিত বিআইডব্লিউটিসি'র আঞ্চলিক অফিস এখনও এ ঘাটেই রয়েছে। তা ছাড়া ফেরি ও গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য রয়েছে বিশাল আকারের দুইটি টার্মিনাল। ঘাট ব্যবস্থাপনায় যা যা প্রয়োজন তার প্রায় সবই আছে এ ঘাটে। সব মিলিয়ে আরিচায় পুনরায় ফেরি সার্ভিস চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজতর হবে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি