‘আমি মারা গেলে দায়ী প্রধান শিক্ষক’

এক বছর আগেই ডায়েরিতে মৃত্যুর কারণ লিখে গিয়েছিলেন সহকারী শিক্ষক

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০২

রাজশাহীর পুঠিয়ায় বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাহাদুল হকের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় এক বছর আগে তার ডায়েরিতে লেখা একটি ‘হলফনামা’সদৃশ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা বানেশ্বর বাজার এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

সাহাদুল হকের মৃত্যু হয় গত ৭ সেপ্টেম্বর। স্থানীয়ভাবে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোক বা শারীরিক অসুস্থতার কথা বলা হলেও, সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ডায়েরির লেখাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ডায়েরির পাতায় ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ‘হলফনামা’ শিরোনামে সাহাদুল হক তার সম্ভাব্য মৃত্যুর কারণ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে লিখে যান। সেখানে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়া, স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক কিংবা অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হলেও বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ আলীকে দায়ী করার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ডায়েরির ওই লেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আন্দোলনরত বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির বলেন, সাহাদুল স্যার শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও সদয় ছিলেন। তার অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে শিক্ষককে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে তারা শুনে আসছিলেন। মৃত্যুর আগে ডায়েরিতে প্রধান শিক্ষকের নাম উল্লেখের বিষয়টি সামনে আসায় তারা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

নিহত শিক্ষকের স্ত্রী মোছা. শারমিন আক্তারও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, চাকরির সময় প্রধান শিক্ষক তার স্বামীর সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। বাসায় ফেরার পর সাহাদুলকে অনেক সময় বিষণ্ণ ও ভারাক্রান্ত মনে হতো। অসুস্থ থাকার সময়ও তাকে ছুটি দেওয়া হতো না এবং অফিসে ডেকে গালাগাল করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নিহত শিক্ষকের বড় মেয়ে তাসফিয়া তারিন সেফার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বিভিন্নভাবে তার বাবাকে মানসিক চাপে রাখতেন। এমনকি শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনেও রাত পর্যন্ত বিদ্যালয়ে আটকে রাখা হতো বলে দাবি করেন তিনি। এসএসসি পরীক্ষার সময় তার বাবার বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তাসফিয়া।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজাদ আলী। মুঠোফোনে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’।

বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহাবুব সরকার জনি বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সত্যতা উদ্‌ঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

ইত্তেফাক/এসএ