উত্তরপত্র মূল্যায়নব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন

খাতা ঠিকমতো না দেখলে পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে— শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩১

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নে রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেসব পরীক্ষক খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেননি, তাঁদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং পরীক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

এসএসসির পুনর্মূল্যায়নে ব্যাপক ত্রুটি ও পরিসংখ্যান

চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় কেবল পুনর্নিরীক্ষাই নয়, বরং উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের পর ফলাফলে নজিরবিহীন পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া প্রথম ফল প্রকাশের সময় ফেল করা ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী এখন পাস করেছে, যা গত বছর ছিল ২ হাজার ২০৭ জন—অর্থাৎ ফেল থেকে পাসের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, সর্বমোট ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের ফল বা গ্রেড এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তিত হয়েছে। এই ব্যাপক পরিবর্তন এসএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নপদ্ধতির নির্ভরযোগ্যতা ও পরীক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও মানোন্নয়ন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করায় শিক্ষার মান বাড়াতে বাজার চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং কারিকুলাম আধুনিকীকরণ অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও পাঠদান কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন তিনি।

উক্ত অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ (সনদ, ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকা) এবং ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৫২৫টি কলেজের ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে, যার কোনো বিকল্প নেই। ইতিমধ্যে শিক্ষা বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। গবেষণা খাতেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগামী বছর চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন বই পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ২০২৮ সালে কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ করা হবে, যার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম