একই ব্যক্তির ছবিতে ভিন্ন নামে ৯৩ জাল এনআইডি, সিএসই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৩২

নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ আলাদা হলেও সব কটিতে একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে অভিনব কৌশলে একাধিক জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগে নেত্রকোনায় রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (১৫ মঙ্গলবার) রাতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের একটি ভ্যারাইটিজ স্টোরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা দায়ের করে বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার রবিউলের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি তিনি নেত্রকোনায় তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মোক্তারপাড়ার দত্ত মার্কেটের ওই দোকানে ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করতে গেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে হাতেনাতে আটক করে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা ডিবির এসআই হায়দার আলী রানাকে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক দেবাংশু কুমার দেব জানান, তল্লাশিকালে রবিউলের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ ও পরিচয় নম্বর সংবলিত ৭টি প্রিন্ট করা জাল এনআইডি জব্দ করা হয়। এসব কার্ডে নাম ও তথ্য ভিন্ন হলেও সব কটিতে একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, কেবল ছবিগুলোর শার্টের রঙে ভিন্নতা রয়েছে। এছাড়া ৬টি কাগজে এনআইডির পেছনের অংশ প্রিন্ট করা পাওয়া যায়, যেগুলোতে একই ছবি ব্যবহার করে আলাদা আলাদা ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তার মুঠোফোন পরীক্ষা করে আরও ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি উদ্ধার করা হয়, যেগুলোতেও ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, নিয়মানুযায়ী একজনের একাধিক এনআইডি করার কোনো সুযোগ নেই এবং তথ্য ডাবল হলেই তা নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরা পড়ে। এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনায় নির্বাচন কমিশন থেকে নিয়মিত মামলা করা হয়ে থাকে। তিনি আরও জানান, অন্যের তথ্য বা ছবি বিকৃতি করা একটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে দায়েরকৃত এই মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

ইত্তেফাক/এএম