সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়

শ্রেণিকক্ষের সংকট, বটতলায় চলছে পাঠদান

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনটি নিয়মকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। নিয়মগুলো হলো—বাড়ি থেকে দুপুরের টিফিন আনা, টিফিনের সময় বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে গিয়ে দোকানের খাবার না খাওয়া, বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল না আনা।

সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থানের কারণে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় শ্রেণিপাঠে বেশি মনোযোগী হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তবে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বিদ্যালয়ের কয়েকটি শ্রেণির পাঠদান খোলা আকাশের নিচে বটতলায় হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন মণ্ডল জানান, সম্প্রতি চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বিদ্যালয়ে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী করতে তিনটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে আসছে। টিফিনের সময় কেউ বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে গিয়ে দোকানের খাবার খাচ্ছে না। পাশাপাশি কোনো শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন বা মোটরসাইকেল নিয়ে আসছে না।

প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনটি নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলায় অভিভাবকেরা খুব খুশি। শিক্ষার্থীরা ও আগের তুলনায় অনেক বেশি শ্রেণিপাঠে মনোযোগী হয়েছে। এতে তাদের মন ও শরীর ভালো থাকছে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমছে। তবে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কয়েকটি ক্লাস বটতলায় বসে করাতে হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। বিদ্যালয়ে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণ করা জরুরি।

তিনি জানান, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ২২৪ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসে। অথচ পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় তাদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের বিদ্যালয়ে সব শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসে, কিন্তু তাদের পাঠদানের পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইউএনওর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মৌসুমী বিশ্বাসসহ অন্য শিক্ষার্থীরা জানায়, নতুন তিনটি নিয়ম চালু হওয়ায় তাদের লেখাপড়ায় মনোযোগ বেড়েছে। এতে মন ও শরীর ভালো থাকছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেও রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যায় তারা উদ্বিগ্ন।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ফ্লোর ও দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। বর্ষাকালে টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। হোয়াইট বোর্ড ভেঙে গেছে। নেই কোনো ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থা। শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক সময় বটতলায় ক্লাস করতে হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আব্দুস শাকুর বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক ক্লাস খোলা আকাশের নিচে বটতলায় করাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হয়। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কিছু করার নেই। বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন খুবই প্রয়োজন।’

সাবোখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির (এসএমসি) সভাপতি লিমন বিশ্বাস ইউনুস বলেন, ‘১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু তাদের পাঠদানের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই অবিলম্বে একটি নতুন চারতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কিছু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ আমাদের বিদ্যালয়ে প্রচুর শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ নেই। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, তিনি ইতিমধ্যে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এসএএস