কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে আল বারাকা হাসপাতালের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন হাসপাতালে হামলা চালায়। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হাসপাতাল বন্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহত পপি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাকুই গ্রামের মো. মোহন মিয়ার স্ত্রী।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ৪ সেপ্টেম্বর জেলার ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকায় অবস্থিত ‘আল বারাকা হসপিটালে’ পপি আক্তারের অস্ত্রোপচার (সিজার) করানো হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ছাড়পত্র পাওয়ার পর থেকে পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি আবারও আল বারাকা হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের স্থানের সেলাই কেটে দেন এবং কোনো সমস্যা নেই বলে তাকে বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরদিন ভোরে পপির অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্বজনরা জানান, সেখানকার চিকিৎসকেরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে পুনরায় ওই দিনই অস্ত্রোপচার করে। তবে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শয্যা খালি না থাকায় তাকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে মৃত্যু হয় পপির।
এদিকে সেই হাসপাতাল থেকে পপির মরদেহ নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী গতকাল আল বারাকা হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পপির স্বামী মোহন মিয়া বলেন, আল বারাকা হাসপাতালে ভুল অস্ত্রোপচারের কারণে পপি আক্তারের মৃত্যু হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় ভুল চিকিৎসায় তার রক্তনালি কেটে ফেলা হয়, যার ফলে তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ভুল চিকিৎসায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আল বারাকা হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয় সাহেবাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। মাতৃহীন দুটি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এবং সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় আল বারাকা হাসপাতালের মালিক মো. আবদুল্লাহ আল কাফিকে একাধিকবার মোবাইলে কল করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
ব্রাহ্মনপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন বলেন, হাসপাতালে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

