সন্তান অপরাধ করলে বাবা-মাকে জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিকল্পনা!

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০৯

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে কোনো শিশু অপরাধে জড়ালে তার দায়দায়িত্ব ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে বাবা-মা বা অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। এর অংশ হিসেবে সন্তান অপরাধ করলে বাবা-মাকে জরিমানা, সরকারি ভাতা কমিয়ে দেওয়া এমনকি চরম পরিস্থিতিতে কারাদণ্ড দেওয়ারও বিধান রাখা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির যুব বিচারবিষয়কমন্ত্রী জেক রিচার্ডস।

দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সমাজের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সন্তানদের অপরাধমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদেরও সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকা প্রয়োজন বলে মনে করে সরকার।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’ বা অভিভাবকত্ব আদেশ আরও শক্তিশালী ও ব্যাপকভাবে প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো বাবা-মা বা অভিভাবককে সন্তানের আচরণ সংশোধনে বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং কিংবা প্রয়োজনে আবাসিক কোর্সে অংশ নিতে বলা হতে পারে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। মন্ত্রী জেক রিচার্ডস জানান, অভিভাবকদের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধানটি কেবল চরম ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতেই প্রয়োগ করা হবে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিচারক। তিনি এই পুরো ব্যবস্থাকে পুরস্কার ও শাস্তির একটি সমন্বিত পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১৬ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আদালতকে প্যারেন্টিং অর্ডার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। ভবিষ্যতে কিশোর অপরাধ রোধে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও আদালত এই আদেশ দিতে পারে। একটি প্যারেন্টিং অর্ডারের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত হতে পারে এবং এই আদেশ অমান্য করা একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে এই আদেশের ব্যবহার ব্যাপক হারে কমেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে যেখানে ১ হাজারের বেশি এমন আদেশ দেওয়া হয়েছিল, ২০২২-২৩ সালে তা কমে মাত্র ৩৩টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মে মাসে তৎকালীন বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি জানিয়েছিলেন, প্যারেন্টিং অর্ডার শক্তিশালী করার ফলে সন্তানদের আচরণ সংশোধনে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সহযোগিতা করবেন না, তাদের বাস্তব পরিণতি ভোগ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা এবং সমাজবিজ্ঞানীদের একটি অংশ সরকারের এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিকি রাটার মন্তব্য করেছেন যে, প্যারেন্টিং অর্ডার যে কার্যকর নয়, তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং মূলত এ কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর ব্যবহার কমে গেছে। তাঁর মতে, জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলে দরিদ্র পরিবারগুলো আরও বেশি আর্থিক সংকটে পড়বে, কারণ দারিদ্র্যের সঙ্গে অপরাধপ্রবণতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়া ইয়ুথ জাস্টিস জার্নালের একটি প্রতিবেদনেও ১৯৯৮ সালে চালুর পর থেকে এই আদেশের সীমিত কার্যকারিতার কথা উল্লেখ করে সন্তানের আচরণ সংশোধনে বাধ্যবাধকতার বদলে অভিভাবকদের অংশগ্রহণ স্বেচ্ছামূলক রাখার পক্ষে মত দেওয়া হয়েছে।

 
ইত্তেফাক/এএম