আখতার হোসেন

সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪১

গণভোটের গণরায়কে বর্তমান বিএনপি সরকার অস্বীকার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে না করে সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন করা হলে সাংবিধানিক সংকট আরও গভীর হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এ কারণে সংসদের সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক এনসিপি বয়কট করেছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী মনছারের ঘাটে আয়োজিত কৃষক সমাবেশ ও গণশুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আখতার হোসেন এসব কথা বলেন। 

এদিন জুলাই সনদে সই করা রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে সংসদের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময়ের কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ কয়েকটি দল তাতে অংশ নিচ্ছে না বলে আগেই জানা গিয়েছিল। 

আখতার হোসেন বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার গণভোটের সঙ্গে তামাশা শুরু করেছে। তারা গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করেছে। যদিও তারা সাহস করে এখনো পর্যন্ত গণভোটকে অবৈধ বলতে পারে নাই। কিন্তু বিভিন্নভাবে তারা বলার চেষ্টা করেছে যে গণভোটের একাংশকে তারা মানে, অন্য অংশকে তারা মানে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ তারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এখানে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ সময় ধরে যে ফ্যাসিবাদী একটা কাঠামো ছিল, সেখান থেকে উত্তরণের আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো যে, সরকার সংবিধানে ফ্যাসিবাদী যে কাঠামো আছে, সেগুলোকে তারা অক্ষত রাখতে চায় এবং সে কারণেই তারা এই সংবিধানের একটা পরিপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য, একটা ফ্যাসিবাদী সাংবিধানিক কাঠামো থেকে একটা গণতান্ত্রিক সাংবিধানিক কাঠামোতে উত্তরণের জন্য যে পরিবর্তনটা দরকার, সেটার দিকে অগ্রসর না হয়ে তারা তাদের মতো করে একটা সংশোধনী নিয়ে আসতে চায়। তারা ইতিমধ্যে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি গঠন করেছে।

কমিটিতে অংশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আমাদেরকে তারা আহ্বান জানিয়েছিল। আমরা সংসদের বিরোধীদল হিসেবে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টিকে যখন ইন্ডিভিজুয়ালি তারা দাওয়াত দিয়েছেন, আমরা সেখানে বলেছি যে জাতীয় নাগরিক পার্টি সংবিধান সংশোধনের যে কমিটি, সেখানে তারা অংশগ্রহণ করবে না। কারণ সংবিধান সংশোধন কমিটি যে আইডিয়ার ভিত্তিতে এখানে গঠিত হয়েছে, সেটাতে জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায়ের কোনো বাস্তবতা নেই এবং এখানে কোনো প্রয়োগ নেই।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ব্যাপারে কীভাবে সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হবে, সে ব্যাপারে গণভোটে রায় দেওয়া হয়েছে এবং সেটা অবশ্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে এটাকে সুরাহা করতে হবে। যদি সংবিধান রিলেটেড পরিবর্তনগুলো সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে না করে সংবিধান সংশোধনী করে করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ যে সাংবিধানিক সংকটে আছে, এই সংকট আরও গভীর হবে এবং সামনের দিনে বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদের মধ্যে পড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ কারণে আমরা সরকারকে শুরুর সময় থেকে দাবি জানিয়ে এসেছি, তারা যেন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে এবং সেখানে সংবিধানের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করবো এবং তার মধ্য দিয়েই গণভোটের গণরায় বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু সরকার বিভিন্নভাবে তারা এই সংশোধন কমিটি যেটা আছে, সেটাকেই তারা প্রবল করে তুলছে, সেটাকেই তারা মুখ্য করে তুলছে। যেহেতু তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি আছে এবং তারা মনে করে যে তাদের টু-থার্ড মেজোরিটি দিয়ে তারা সংবিধানের পরিবর্তনগুলো নিজেদের মতো করে করতে পারবে, সে কারণেই তারা বিরোধীদলের কোনো কথাকে, যেটা জনগণের কথা, সেটাকে তারা গ্রাহ্য করছে না।

বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, আজকে তারা যে সংবিধান সংশোধন কমিটির মিটিং রেখেছে, আমরা স্পষ্ট করে বলছি, এর মধ্য দিয়ে সংকটের সুরাহা হবে না, বরং সংকটের পথকে আরও দীর্ঘায়িত করা হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এই সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠক বয়কট করছে এবং কোনোভাবেই আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করবো না। যদি সরকারের বোধোদয় হয়, তারা যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে, সেই শপথ গ্রহণ করে, তাহলেই বাংলাদেশের মানুষেরা সেটাকে অ্যাকসেপ্ট করবে এবং মানুষের রায় অনুযায়ী তা গঠিত হবে এবং সেখানেই আমরা এই সংবিধান রিলেটেড যে সংকট উদ্ভূত হয়েছে, সেগুলোর আমরা একটা সমাধান পাব।

এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ও দিনাজপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক আবু সাঈদ লিওনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 
ইত্তেফাক/এমএস