আবহাওয়ার বিভ্রান্তিকর পূর্বাভাস কেন?

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৭

প্রতি বছর জুন-জুলাই-আগস্ট মাসে বারবার সমুদ্রবন্দরের জন্য ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়; এতে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফলে সন্দ্বীপ-হাতিয়া-ভোলা এলাকায় কোস্টাল কার্গো জাহাজডুবি হয় এবং মাছ ধরার ট্রলার ডুবে বহু মানুষ অকালে প্রাণ হারায়। গত এক মাসে তিনটি কার্গো এবং ২০-২৫টি ফিশিং ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ দেশের জনসাধারণের বহু বছরের অভ্যাস হচ্ছে তারা সমুদ্রে ৩-৪ নম্বর সংকেতে খুব বেশি সাবধান হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত বিপদ সংকেত ৫, ৬, ৭ না ওঠে ততক্ষণ পর্যন্ত জেলে ও নাবিকেরা উদাসীন থাকেন। এদিকে প্রতি বছরই বিভ্রান্তিকর আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কারণে জাহাজ ও ট্রলার ডুবির ফলে অকালে বহু মূল্যবান জীবন ও সম্পদ হানি হচ্ছে।

সমুদ্রবন্দরের জন্য বর্তমানে প্রচলিত ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের গুরুত্ব একই—শুধু ঘূর্ণিঝড়টি বন্দরের উত্তর-দক্ষিণ অথবা বন্দরের ওপর দিয়ে প্রবাহের জন্য ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত করা হয়েছে। অর্থাত্ ৫ নম্বর বিপদ সংকেত উঠলে বাতাসের গতিবেগ ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার; কিন্তু জনগণ কি ৫ এবং ৭ নম্বর বিপদ সংকেতকে একই রকম গুরুত্ব দেবে?

ঠিক একইভাবে ৮, ৯ ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের গুরুত্ব একই রকম। কারণ শুধু দিক-নির্দেশের জন্য তিনটি নম্বর ব্যবহার করা হয়, যা বাস্তবসম্মত নয় বলে বিগত প্রায় ২৮ বছর ধরে পর্যালোচনা করে সারা দেশের জন্য মোট ছয়টি সংকেত (সমুদ্র ও নদী বন্দরের জন্য একই) চালু করার লক্ষ্যে কমিটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা প্রণয়ন করেছেন। সেটি কার্যকর হলেও অনেক কাজে লাগত।

২০০৩ সালে চাঁদপুরের কাছে নাসরীন-১ ডুবে ৬২৫ জন লোক নিহত হওয়ার পর অতি জরুরিভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের জন্য আমরা ১৪টি রাডার স্টেশন স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিলাম, যা বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে। ইদানীং কঠোর পদক্ষেপের ফলে যাত্রীবাহী লঞ্চের দুর্ঘটনা অনেক হ্রাস পেয়েছে। তারপরও ২০১৯ সালেই এ পর্যন্ত ৩৪টি নৌদুর্ঘটনায় ৯১ জন নিহত এবং ১৭৬ জন আহত হয়েছে। আমরা চাই নৌপথে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটুক। সড়কপথের চেয়ে নৌপথ অনেক নিরাপদ। কিন্তু আবহাওয়া বিভাগের বিভ্রান্তিকর পূর্বাভাসের ফলে জনসাধারণকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলের হতদরিদ্র জেলে এবং নাবিকদের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য অবিলম্বে নতুন সুপরিশকৃত ছয়টি কমন সংকেত নদী ও সমুদ্রবন্দরের জন্য একইসঙ্গে চালু করার ব্যবস্থা নিতে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

মো. এমদাদুল হক বাদশা

কে ১১৮ দক্ষিণ বনশ্রী, ঢাকা ১২১৯