সাতকানিয়ায় শঙ্খ নদীর অব্যাহত ভাঙনে এ বছর বিলীন হয়ে গেছে আমিলাইষ ও বাজালিয়া ইউনিয়নের ৩০টি ঘরবাড়ি। সাম্প্রতিক বন্যায় নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে ঐসব ঘরবাড়ি।
আমিলাইষ ইউনিয়নের আবুল হাশেম, আবু সৈয়দ, মো. হানিফ, মকবুল আহমদ, আইয়ুব আলী, আজম, সোলতান আহমদ, রশিদ আহমদ, মুন্সী আহমদ, সোলেমান, জসিম উদ্দিন, নাছির উদ্দিন, ফৌজুল কবির, মো. সিরাজ, নাছির উদ্দিন, আবদুর রহমান, আবু তৈয়ব, মো. রহিম, মো. মনির জানান, শঙ্খের ভাঙনে তাদের এ বছর বসতঘরসহ ১৯টি বাড়ি বিলীন হয়েছে। অপরদিকে বাজালিয়া ইউনিয়নের বোমাং বাজারের পশ্চিম পাশের মোহাম্মদ খলিল, মোস্তাফিজুর রহমান, নাছির উদ্দিন, ভুট্টো, কামাল উদ্দিন, আবু তালেক জানান, ভাঙনে তাদের বাড়ি ও নয়াপাড়ার পাঁচটিসহ মোট ১১ ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে।
সরজমিনে উপজেলার আমিলাইষ ইউনিয়নে দেখা গেছে, এখনো ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে পশ্চিম আমিলাইষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম আমিলাইষ দাখিল মাদ্রাসাসহ আরো দেড় শতাধিক বসতঘর ও দোকান। তাছাড়া যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে এ এলাকার গুরত্বপূর্ণ আমিলাইষ-চরতীরসহ কয়েকটি পাকা সড়ক। ইতিমধ্যে ভাঙন প্রতিরোধে ইউনিয়নের ২ নম্বর ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার কিছু অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক দিলেও ৩ নম্বর ওয়ার্ড সম্পূর্ণ অরক্ষিত রয়ে গেছে, যার কারণে সামনে পাহাড়ি ঢলের পানি নামলে যে কোনো সময় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
ওই এলাকার মোহাম্মদ আবু ছালেহ, মো. হাছান ও নুরুল আলম জানান, নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা দ্বিগুন হারে বেড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে খুব অল্প সময়ে আমিলাইষের ৩নং ওয়ার্ড এলাকা নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাবে।
আমিলাইষ ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম হানিফ বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি পদক্ষেপ না নিলে এ মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা থেকে অবশিষ্ট বসতঘরগুলো আর এ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি রক্ষা করা যাবে না। পানির স্রোতে বিলীন হওয়া ঘরবাড়ির তালিকা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
বাজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত বলেন, এ বছরের বন্যায় ১১টি বাড়ি সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে এবং হুমকিতে রয়েছে শত শত ঘরবাড়ি, দোকান ও স্কুল-মাদ্রাসা। বন্যায় ক্ষতির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আমি বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত ও নদীভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। জেলা প্রশাসকের কাছে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকাও পাঠানো হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী বিদ্যুত কুমার সাহা বলেন, শঙ্খ ও ডলু নদের ভাঙন প্রতিরোধে বর্তমানে ১৩০ কোটি টাকার একটি বড়ো প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। বর্ষার কারণে কাজের গতি একটু কম। এই কাজ শেষ হলে শঙ্খ নদের পাড়ের মানুষের আর দুশ্চিন্তা থাকবে না।
