চুয়েটে ভিসিকে পুনর্বহালের আন্দোলনে ‘৫৬’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ‘প্রশ্নযাত্রা’ নামে ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ‘৫৬’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কেন উপাচার্যকে অপসারণ করা হলো-বিক্ষোভ থেকে প্রশাসনের কাছে সেই প্রশ্নই ছুড়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে আবার শহীদ মিনারে শেষ হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সেখানে সমাবেশ করেন। উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের আজ সপ্তম দিন। ষষ্ঠ দিনের মতো আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যাপক সায়েম অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য শিক্ষক ও উপাচার্য ছিলেন। তার ৫৬ দিনের নেতৃত্বে চুয়েট দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথে ছিল। কিন্তু হঠাৎ তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তাকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন কর্মসূচি চলবে।

কর্মসূচিতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজকের কর্মসূচিতে একটাই প্ল্যাকার্ড ব্যবহার করেছি। প্রতিটি প্ল্যাকার্ডে ৫৬-এর পাশে প্রশ্নবোধক চিহ্ন রয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা জানতে চেয়েছি, ৫৬ দিনেই কেন অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণ করা হয়েছে।’

কর্মসূচিতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাফিসা রিদিতা বলেন, ‘আমরা একটা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছি। আমরা সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল চাই। এ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

অবস্থান কর্মসূচির এক পর্যায়ে পথনাট্য করেন শিক্ষার্থীরা। এতে তারা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমের যোগদানকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি তারা অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান শিক্ষার্থীরা

প্রশ্নযাত্রা কর্মসূচি শেষে বিকেল চারটায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহরিয়ার হিশাম, মৌমিতা দত্ত প্রিয়া ও রাতুল হাসান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তারা জানান, অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক কলাবোরেশন অফিস, রিসার্চ হাব, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগসহ নানা প্রগতিশীল পদক্ষেপ শুরু করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের মতে, এসব উদ্যোগ পর্যাপ্ত সময় পেলে চুয়েটের দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও স্পষ্ট হতে পারত।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বর্তমান সরকার চুয়েটের শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও সম্মিলিত মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেবে বলে প্রত্যাশা করছি। চুয়েট পরিবারের উদ্বেগ, দেশ-বিদেশের অ্যালামনাইদের সংহতি, আন্তর্জাতিক একাডেমিক মহলের সমর্থন ও অধ্যাপক সায়েম স্যারের গৃহীত শিক্ষা ও গবেষণামুখী উদ্যোগগুলো বিবেচনায় নিয়ে চলমান পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করা হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি

এদিকে একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি। রোববার বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হয়।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ধারণ করা। এখানে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। একটা অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আমরা মানসিকভাবে চাপে রয়েছি, শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে যাচ্ছে। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি না। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, বর্তমান সরকারের মিশন ও ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের এ চলমান সমস্যার সমাধান করুন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি রক্ষা করুন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়োতোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েম স্যারকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। সম্মানিত শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।’

ইত্তেফাক/এসএইচ