কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ত্রিমোহনী বাজার এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে বেঁধে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ত্রিমোহনী বাজার জামে মসজিদের পিছনে জাহাঙ্গীর আলম বাসার ভাড়াটিয়া তারা মিয়ার শিশু কন্যার হাত ধরে টান দেয় মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী। এ ঘটনায় শিশুটি চিৎকার দিলে বাসার লোকজন বেড়িয়ে এসে ওই নারীকে ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে ওই নারী দৌড় দিলে তারা মিয়া তাকে আটকে ত্রিমোহনী বাজারের একটি দোকানের খুঁটিতে বেঁধে পেটায়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু প্রত্যক্ষদর্শী ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে ছেলেধরা আটক করা হয়েছে মর্মে পুলিশের সহায়তা চাইলে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
কুড়িগ্রাম সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, ডিউটি অফিসারের রুমের মেঝেতে কম্বল গায়ে শুয়ে বিলাপ করছেন ওই নারী। তাকে পেটানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করছিলেন তিনি। তার নাম জিজ্ঞাসা করলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন।
কয়েকবার জিজ্ঞাসার পর তিনি নিজেকে রেজিয়া পারভীন নামে পরিচয় দেন। বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে কখনও নাটোরের সিংড়া আবার কখনও গোবিন্দ নগর বলছিলেন। ওই নারীর আচরণে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হচ্ছে বলে জানান থানায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ডিউটি অফিসার ও পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. সোহেল রানা জানান, ৯৯৯ এর মাধ্যমে আমাদের ফোন করে জানানো হয় যে, ত্রিমোহনী এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে আমরা ফোর্স পাঠিয়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। তার পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পরিচয় পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. মাহফুজার রহমান জানান, ওই নারীকে দেখে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হচ্ছে। তাকে ছেলেধরা সন্দেহে আটকে রাখা হয়েছিল। তবে তাকে বেঁধে পেটানোর কোনও অভিযোগ পাইনি।
আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে মাইক্রোবাস চাপায় ৭ বছরের এক শিশু নিহত
আমরা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের খবর দিয়েছি। তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ওই নারীর বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
