মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার শরণার্থীকে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৪

মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের শরণার্থীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তিনটি মিয়ানমারের নৌযানে করে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমহাসচিব মাখজান মাহিউদ্দিনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী এবং ২৭ শিশু রয়েছে। শিশুদের মধ্যে ২০ জন ছেলে ও সাতজন মেয়ে। তাদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

মালয়েশিয়ার ১৪টি অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে এসব ব্যক্তিকে বাছাই করা হয়। মিয়ানমার তাদের পরিচয় যাচাই করে গত ১৩ আগস্ট কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার কাছে তালিকা পাঠায়।

মালয়েশিয়া জানিয়েছে, এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম স্বেচ্ছামূলক এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সম্মত হওয়া প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। ফেরত পাঠানোর আগে প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচয় যাচাই করা হয়। এরপর তাদের লুমুত এলাকায় রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভির ঘাঁটিতে নেওয়া হয়।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএমএস মোত্তামা, ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন এবং হাসপাতাল জাহাজ ইউএমএস থানলউইনের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

গত মাসে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার নাগরিককে গ্রহণ করতে সম্মত হয়েছে। এরপর মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পরিচয় শনাক্ত ও যাচাইয়ের কাজ শুরু করে।

পরে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, শরণার্থীদের ধাপে ধাপে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আরও আলোচনার জন্য তিনি মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিশ্চয়তা চাওয়ার কথাও জানান তিনি।

গত ২৯ জুলাই নেগেরি সেমবিলানের জেলেবু জেলার সিম্পাং দুরিয়ান শহরে আনোয়ার বলেন, ‘মানুষ প্রশ্ন করে, আমরা কেন তাদের সরাসরি ফেরত পাঠাই না। কিন্তু কোথায় পাঠাব? মিয়ানমার আগে তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্কের কারণে তারা মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার জনকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে।’

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

 
ইত্তেফাক/এসজে