একনেকে মাদারগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের পর এর কাজে গতি ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বিদ্যুৎ বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছে। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটকে থাকা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করা, ঠিকাদারের বকেয়া বিল পরিশোধ এবং প্রকল্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ একতরফাভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ এবং উপসচিব আহসান সাদী এই পরিদর্শনে অংশ নেন। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরপিসিএল ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরুর অনুমতি দিয়েছে। পরিদর্শনের সময় প্রকল্পের অগ্রগতি, কারিগরি সমস্যা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার শুরুতে পুনর্বাসন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এখনও ১৪ থেকে ১৫টি পরিবার পুনর্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সব জটিলতা নিরসনের জন্য আরপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে নির্দেশ দেন। এরপরই আলোচনায় আসে প্রকল্পের নকশা ও কার্যপরিধি পরিবর্তনের বিষয়টি।
সভায় ভারতীয় ইপিসি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘অমরা রাজা ইনফ্রা প্রাইভেট লিমিটেডের’ প্রতিনিধি ভেঙ্কটেশ প্রসাদ অভিযোগ করেন, ৬২ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর একতরফাভাবে অনেক কাজ বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০০ কোটি টাকার বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় কাজের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি জানান, স্ট্যাটিক ভিএআর জেনারেটর (এসভিজি) এবং দুই বছরের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো জরুরি বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। এসভিজি না থাকলে ৪৭ কিলোমিটার দূরের ঘাটাইল উপকেন্দ্রের মাধ্যমে মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ কঠিন হবে। আরপিসিএলের বৃহৎ সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটিও প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে ঝুঁকি তৈরি করেছে।
এসব শুনে অতিরিক্ত সচিব ও উপসচিব গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কারিগরি বাস্তবতা বিবেচনা না করে কারা এসব কাজ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা তদন্ত করার নির্দেশ দেন তারা। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়। পাশাপাশি ভারত সরকারের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় প্রাপ্ত ঋণের অব্যবহৃত অর্থের ওপর প্রতি ছয় মাস অন্তর দশমিক ৫ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি এড়াতে দ্রুত সব বকেয়া বিল পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে তারা এসেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজের গতি ত্বরান্বিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই নিবিড় তদারকিতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কেটে প্রকল্পটি নতুন গতি পাবে এবং জাতীয় গ্রিডে ১০০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার পথ সুগম হবে।
