বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রূঢ় আচরণ সমর্থনযোগ্য নয় এবং বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আচরণের নিন্দা জানাই। তবে এ ধরনের ঘটনায় তড়িঘড়ি করে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বাড়াবাড়ির চরম মাত্রা।
এবি পার্টির নেতারা বলেন, মদিনা থেকে ঢাকাগামী বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ট্রলির সংকট, লাগেজ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘসূত্রতা এবং জমজমের পানি নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগও এসেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন সংসদ সদস্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
তারা বলেন, সংসদ সদস্যদের লাগেজ যদি বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে, তাহলে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের কী অবস্থা, তা সহজেই অনুমেয়। বিমানবন্দরে নিয়মিত লাগেজ বিড়ম্বনা, হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ থাকলে সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখে। অথচ দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে তাদের ন্যায্য সেবা ও সম্মান নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায় শুধু তাদের উপার্জন গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। দেশে ফেরার মুহূর্ত থেকে তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এবি পার্টির নেতারা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের আচরণ এবং দায়িত্বের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান। কোনো কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তারা।
একই সঙ্গে গ্রেপ্তার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানায় এবি পার্টি। পাশাপাশি বিমানবন্দরের লাগেজ ও যাত্রীসেবা ব্যবস্থাপনায় সামগ্রিক সংস্কারেরও দাবি জানানো হয়।
