ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনা

সাত প্রাণহানির ঘটনায় অজ্ঞাত বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৫১

ময়মনসিংহ নগরে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির অজ্ঞাত চালককে আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। মামলায় বাসটির চালককে আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম। তিনি বলেন,

দুর্ঘটনার পরপরই বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহযোগীরা পালিয়ে যান। মা, ভাই, ভাতিজি ও নাতিকে হারিয়ে জামালপুরের দড়িহামিদপুর গ্রামের মো. মোবারক আলী বাদী হয়ে রাতে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাত ১২টার পর অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে সেটি মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে শুক্রবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজীব পরিবহনের বাসটি জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। দুপুর দেড়টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকা পর্যন্ত আসতেই বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই সাতজন মারা যান।

নিহত সাতজনই জামালপুর জেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে একই পরিবারের চারজন হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। নিহত অন্য তিনজন হলেন একই উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪) এবং বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তাঁর স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণে আকুয়া বাইপাস সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর এই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে পুলিশ। রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাতজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে জামালপুর শহরে ‘রাজীব পরিবহনের প্রতীকী মরদেহ’ নিয়ে বিক্ষোভ ও গায়েবানা জানাজা করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্বজনেরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর শনিবার সকালে পৃথক জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী রাজীব পরিবহনের বাসগুলো অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চলাচলের জন্য প্রায়ই মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়। 

নিহত মোফাজ্জলের স্বজনদের ভাষ্য, মাকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মেয়ে ও নাতিও তার সঙ্গে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় চারজন একসঙ্গে রওনা হন।

মোফাজ্জলের ছোট ভাই মোবারক হোসেন বলেন, পেশায় রাজমিস্ত্রি মোফাজ্জল। প্রায় দুই দশক গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন তিনি। তারা জামালপুরে গ্রামের বেড়াতে গিয়েছিলেন। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। শুক্রবার সকালে মাকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বাড়িতে এলে মেয়ে ও নাতিও সঙ্গে যাওয়ার বায়না ধরে। পরে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে বেলা ১১টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে যায় পরিবারের চার সদস্যের শেষ যাত্রা।

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন ঘটনার পর জানিয়েছিলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছিল। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন মিলে অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করেন। তার ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

ইত্তেফাক/এপি