ভিডিও ভাইরাল

বিদ্যালয়ের সভায় ‘কথা কস ক্যারে’ বলে শিক্ষিকাকে থাপ্পড় আরেক শিক্ষকের

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২:৪৯

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিদ্যালয়ের সভা চলাকালে এক সহকারী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে তার সহকর্মী ও স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সভা চলাকালে প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক মো. খুরশেদ আলমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে খুরশেদের স্ত্রী ও ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাদের থামানোর চেষ্টা করলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে থাপ্পড় মারেন খুরশেদ।

ঘটনার পর ২০ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র পালকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সোমবার বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে খুরশেদ আলমকে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় পাশে বসা তার স্ত্রী তাকে শান্ত হতে বললে খুরশেদকে বলতে শোনা যায়, ‘থাপ্পড় দিয়া দাঁত ফালাইয়া দিবো, কথা কস ক্যারে?’

এর জবাবে ওই শিক্ষিকা বলেন, ‘এখন রাখুন, এটা অফিস।’ তখন খুরশেদ বলেন, ‘অফিস হইছে দেইখ্খা কী হইছে? আমি কি কেউর কর্মচারী?’ এরপর তিনি স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরে ‘বাইর হ’ বলতে শোনা যায়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. খুরশেদ আলম জানান, তিনি আট বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তার স্ত্রীও প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেখানে শিক্ষকতা করছেন।

ঘটনার জন্য অনুতপ্ত জানিয়ে খুরশেদ বলেন, ঘটনার সময় তিনি নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এখন তিনিও বিব্রত। তিনি ও তার স্ত্রী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান।

কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, স্বামী-স্ত্রী হলেও বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক আরেকজন শিক্ষককে থাপ্পড় মারতে পারেন না। এ ধরনের আচরণ চাকরি বিধির পরিপন্থী। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 
ইত্তেফাক/এসজেএস