কিশোরগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:০০

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্যের দূষণ প্রতিরোধ, নদী-খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষা এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে কিশোরগঞ্জে আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘ইন্টিগ্রেটেড অ্যাপ্রোচ টুওয়ার্ডস সাসটেইনেবল প্লাস্টিকস ইউজ অ্যান্ড মেরিন লিটার প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কারিগরি সহায়তা দেয় জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) এবং আর্থিক সহায়তা করে বাংলাদেশে নিযুক্ত রয়্যাল নরওয়ে দূতাবাস।

আলোচনা সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. মমিন ভূইয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিডো বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট মো. সহিদুল ইসলাম (সিয়াম)।

সকাল সাড়ে ১০টায় অতিথিদের আগমন ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়। মূল প্রবন্ধে মো. সহিদুল ইসলাম প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু বর্জ্য অপসারণ নয়; একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তন সৃষ্টি করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি অপ্রয়োজনীয় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করা, পারিবারিক পর্যায়ে উৎসস্থলে প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথক করা এবং সঠিকভাবে পুনঃচক্রায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এসব অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনের অংশ করতে পারলেই টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবেশ সুরক্ষায় তরুণ সমাজ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর কিশোরগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. কামরুল হাসান মারুফ বলেন, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। দৈনন্দিন জীবনে অপ্রয়োজনীয় একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে পরিচ্ছন্ন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে হাতে-কলমে পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তিনি দাবি জানান।

সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তর, কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক মো. মমিন ভূইয়া বলেন, কিশোরগঞ্জ শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জেলার জলাশয় ও জলাভূমি মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হওয়ায় এসব এলাকায় প্লাস্টিক বর্জ্য জমা হওয়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, রাস্তাঘাট, বাজার ও ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য পরে আশপাশের জলাশয়ে গিয়ে জলজ পরিবেশ দূষিত করে। গুরুদয়াল কলেজের মুক্তমঞ্চে আসা দর্শনার্থীদের নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহার এবং যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভা শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন থেকে শুরু হয়ে গুরুদয়াল কলেজের মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মমিন ভূইয়া ও ইউনিডো বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট মো. সহিদুল ইসলাম (সিয়াম) আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

কর্মসূচির আওতায় মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণের আশপাশ ও সংলগ্ন জলভাগের খাল থেকে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন ধরনের কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এ সময় আনুমানিক ৮৫০ দশমিক ৭৮ কেজি একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব বর্জ্যের মধ্যে ছিল চিপসের প্যাকেট, পলিথিন, পানি ও কোমল পানীয়ের প্লাস্টিক বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী।

অনুষ্ঠানে টেকসই প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার হ্রাস, উৎসস্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ, পুনর্ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চর্চা জোরদারের মাধ্যমে ইতিবাচক ও দীর্ঘমেয়াদি আচরণগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি