এমজিআইয়ের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ২ লাখ গাছের চারা রোপণ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৫২

কোরিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (কেবিসিসিআই) গত ১ অক্টোবর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার সোনাচরে অবস্থিত কুমিল্লা ইকোনমিক জোনে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিম জি জুন এবং কেবিসিসিআই সভাপতি শাহাব উদ্দিন খান। অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন কেবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তফা কামাল।

পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং টেকসই শিল্পায়নের প্রতি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) সম্প্রতি তাদের ইকোনমিক জোনগুলোতে দুই লাখ গাছের চারা রোপণ করেছে।

ঢাকা থেকে আসা বিশিষ্ট অতিথিরা একটি বহরে কুমিল্লা ইকোনমিক জোনে পৌঁছান। সেখানে তাদের স্বাগত জানান মোস্তফা কামাল। মোস্তফা কামাল বলেন, “আমাদের কোরিয়ান বন্ধু এবং কেবিসিসিআইয়ের সদস্যদের এইখানে পেয়ে আমরা সম্মানিত। সবুজায়নের এই উদ্যোগ বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবেশ, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি এমজিআইয়ের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এমজিআই এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।”

এরপর অতিথিরা ইকোনমিক জোনের নির্ধারিত স্থানে গাছের চারা রোপণ করেন। এ উদ্যোগ শিল্পাঞ্চলকে আরও সবুজ করে তোলার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই শিল্পায়নের প্রতি কেবিসিসিআইয়ের দায়বদ্ধতারও প্রকাশ। কুমিল্লা ইকোনমিক জোনের পাশাপাশি এমজিআইয়ের আরও তিনটি ইকোনমিক জোন রয়েছে। এগুলো হলো মেঘনা ইকোনমিক জোন (এমইজেড), মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন এবং তিতাস ইকোনমিক জোন।

কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি জুন বলেন, এখানে রোপণ করা প্রতিটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অঙ্গীকার।

কেবিসিসিআই সভাপতি শাহাব উদ্দিন খান বলেন, এই কর্মসূচি প্রমাণ করে যে “অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পরিবেশ সুরক্ষা পাশাপাশি চলতে হবে।”

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিরা ২০২৪ সালে রোপণ করা গাছগুলোও পরিদর্শন করেন। পরে তারা কুমিল্লা ইকোনমিক জোনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন।

কর্মসূচিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ ও কোরিয়ার ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান।

দিনের কর্মসূচিতে একটি স্মারক ফটোসেশন এবং বাংলাদেশ ও কোরিয়ার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময়ও অনুষ্ঠিত হয়। 

এ সময় মোস্তফা কামাল বলেন, শিল্পের প্রবৃদ্ধি এমন হওয়া উচিত, যাতে আমরা যে ভূমি পেয়েছি, তার চেয়ে আরও সবুজ করে রেখে যেতে পারি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রোপণ করা গাছগুলো বাংলাদেশ ও কোরিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্বের প্রতীক হয়ে থাকবে।

কেবিসিসিআই আশা করছে, এই উদ্যোগ আরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সবুজায়ন কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে এবং বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিল্পগ্রুপটি এফএমসিজি, জ্বালানি, উৎপাদন ও অবকাঠামোসহ নানা খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এমজিআই বর্তমানে ৫৭টিরও বেশি শিল্প ইউনিট পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ৬৫ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ‘ফ্রেশ’সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মাধ্যমে এমজিআই দেশ ও বিদেশের লাখো ভোক্তাকে পন্য ও সেবা দিয়ে দেশের অর্থনীতি ও শিল্প উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ইত্তেফাক/এমএসআর