তনুশ্রীর যৌন হেনস্থার অভিযোগ

খারিজ হয়েছিল মামলা, তবে দায়মুক্তি পাননি নানা পাটেকার

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০১

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যুতে কাতর গোটা বলিউড। তবে এই শোকের আবহের মাঝেই পুরোনো স্ক্যান্ডাল নিয়ে হাজির হয়েছেন বলিউডের এককালের সেনসেশন তনুশ্রী দত্ত।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বলিউডে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। প্রায় দশ বছর আগের একটি ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন।  ঘটনাটি ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ ছবির একটি গানের শুটিংকে ঘিরে।

তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল, গানটিতে নানা পাটেকরের থাকার কথাই ছিল না। কিন্তু তিনি সেটে এসে তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। অভিনেত্রীর অভিযোগ, নাচ শেখানোর অজুহাতে নানা তার হাত ধরে টানেন, ধাক্কা দেন এবং শরীরে অনভিপ্রেতভাবে স্পর্শ করেন।

তার আরও অভিযোগ ছিল, পরে গানের নাচের ভঙ্গি বদলে নানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্য রাখার চেষ্টা হয়েছিল। নাচটির কোরিওগ্রাফার ছিলেন গণেশ আচার্য। তনুশ্রীর অভিযোগ ছিল, গণেশও সমর্থন করেছিলেন নানা পাটেকরকে। শেষ পর্যন্ত ওই ছবিতে আর কাজ করেননি অভিনেত্রী।

হেনস্থার ঘটনার পরে তনুশ্রী শুটিং ছেড়ে সাজঘরে চলে যান এবং তার বাবা-মা তাকে নিতে এলে তিনি গাড়িতে করে স্টুডিও থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন।

তনুশ্রীর অভিযোগ, বাইরে একদল লোক তার গাড়ি ঘিরে হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করে। তার দাবি ছিল, ওই হামলার সঙ্গে নানার ঘনিষ্ঠদের যোগ ছিল। তবে ২০০৮ সালের পুলিশি অভিযোগে মূলত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাটাই নথিভুক্ত হয়েছিল। যৌন হেনস্থার অভিযোগ সেখানে ছিল না।

দশ বছর পরে ২০১৮ সালে তনুশ্রী ফের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। তার বক্তব্য, ‘সবাই জানত, কিন্তু কেউ কিছু বলেনি।’ তার এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই ভারতে যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন নতুন গতি পায়। সেই সময়ের ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ আন্দোলনে একের পর এক যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠে আসে।

তনুশ্রীর অভিযোগ নানা পাটেকর অবশ্য শুরু থেকেই অস্বীকার করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি পালটা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘যৌন হেনস্থা বলতে কী বোঝাচ্ছেন? সেখানে পঞ্চাশ থেকে একশো জন মানুষ ছিল।’ পরে নানার আইনজীবী তনুশ্রীকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বলেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে তনুশ্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওশিওয়ারা থানায় মামলা হয়। নানা ছাড়াও নৃত্য পরিচালক গণেশ আচার্যেরও নাম ছিল অভিযোগে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ এবং ৫০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছিল।

এর প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে মুম্বাই পুলিশের বক্তব্য ছিল, অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তনুশ্রী সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

এর পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পরে ২০২৫ সালের মার্চে আন্ধেরির আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে। আদালত জানায়, ২০০৮ সালের ঘটনার প্রায় দশ বছর পরে দায়ের হওয়া মামলাটি আইন নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে। ফলে মূল অভিযোগ সত্যি না মিথ্যা, সেই প্রশ্নে যাওয়ার সুযোগই পায়নি আদালত।

অর্থাৎ, আদালত নানা পাটেকরকে অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস করেনি, আবার তনুশ্রীর অভিযোগকেও সত্য বলে প্রতিষ্ঠা করেনি। পুলিশ তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়েছিল, আর আদালত পরে সময়সীমার কারণে মামলাটি নিষ্পত্তি করে।

নানার মৃত্যুর পরে তার দীর্ঘ অভিনয়জীবন নিয়ে অনেকেই স্মৃতিচারণ করে। বহু তারকাই শোকপ্রকাশ করেন। তার পাশাপাশি তনুশ্রীর এই অভিযোগের প্রসঙ্গও ফিরে এসেছে।

সূত্র: আনন্দবাজার

ইত্তেফাক/এটিএন