তালা ভেঙে ভিসির দপ্তরে নতুন উপাচার্য, উত্তপ্ত চুয়েট ক্যাম্পাস

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৪

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের নিচে অবস্থান নিলে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁর দপ্তরে প্রবেশের প্রতিবাদ জানান এবং চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল পৌনে ১০টার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে উপাচার্য ভবনের ফটকে লাগানো তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

উপাচার্যের এভাবে দপ্তরে প্রবেশের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফিফ কবির বলেন, তাঁদের এক দফা দাবি হলো সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মো. সায়েমকে পুনর্বহাল করা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলবে। তালা ভেঙে নতুন উপাচার্যের দপ্তরে প্রবেশের ঘটনাও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিহা সাবনাম বলেন, কোনো পদে নিয়োগ পাওয়া এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা এক বিষয় নয়। সংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও প্রতিবাদ উপেক্ষা করে তালা ভেঙে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের ঘটনায় তিনি নিন্দা জানান।

এদিকে উপাচার্যকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভিসি ভবন ছেড়ে যাওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছিল আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন না ছাড়লে ভবনটিকে ‘ভ্যাকেন্ট’ ঘোষণা, ফটকে পুনরায় তালা দেওয়া এবং বাইরে থেকে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তাঁরা। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি পালন করছেন।

নিয়োগের পর ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে এত দিন তিনি সরাসরি ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি।

এ পরিস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এ সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও দপ্তরে অবস্থানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ এবং চলমান অচলাবস্থা নিরসনে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

ইত্তেফাক/এমএএম