এনসিটির ইজারা বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে গণঅনশন

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪৫

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি বাতিলের দাবিতে দিনব্যাপী গণঅনশন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সোমবার বেলা ১১টায় বন্দর ভবনের ওয়ান স্টপ সার্ভিস বিল্ডিংয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ এবং ‘জাতীয়তাবাদী বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক দল’-এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনা। গত ৮ অক্টোবর জনমত উপেক্ষা করে এবং বন্দর ব্যবহারকারী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে একতরফাভাবে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

তাদের দাবি, চুক্তি স্বাক্ষরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বন্দর এলাকায় তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় চার দিনের মাথায় সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা প্রতিবাদে রাজপথে নামতে বাধ্য হন।

গণঅনশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, দেশের প্রধান বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার একটি বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি, ভৌগোলিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। সরকার বন্দর পরিচালনায় আধুনিকায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনার কথা বললেও এই উদ্যোগ মূলত একটি বিশেষ বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার কৌশল বলে মন্তব্য করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার পর বন্দরে কর্মরত দুই শতাধিক কর্মচারীর কাজের ধরন ও চাকরির ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে চুক্তিতে সুস্পষ্ট নীতিমালা রাখা হয়নি। শ্রমিকদের রক্ত ও ঘামে চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমান অবস্থানে পৌঁছালেও তাদের জীবিকার নিরাপত্তা উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন একটি গোপন চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, চুক্তির অস্বচ্ছতা পুরো বন্দোবস্ত প্রক্রিয়াকে গভীর সন্দেহের মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকারও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

ইত্তেফাক/এসজে