ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও কেনাকাটায় নানা অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৯ কোটি টাকা মূল্যের একটি ক্যাথল্যাব যন্ত্র প্রায় ১০ বছর ধরে চালু না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পুরো বিল পরিশোধের সত্যতা পেয়েছে দুদক টিম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফরিদপুর জেলা সমন্বিত দুদক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল হাসপাতালে এই অভিযান চালায়।
অভিযানকালে দুদক কর্মকর্তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ভুক্তভোগীরা চিকিৎসাসেবা না পাওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হয়রানি, টাকা ছাড়া ট্রলি না পাওয়া, ওষুধ সংকট এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারের নানা অভিযোগ তুলে ধরেন।
দুদক টিম হাসপাতালের মালামাল ও চিকিৎসাসামগ্রী ক্রয়ের বিভিন্ন নথি পর্যালোচনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করে। এর মধ্যে কার্ডিওলজি বিভাগের ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা মূল্যের অব্যবহৃত ক্যাথল্যাব যন্ত্রটির বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ফিলিপস ইলেকট্রনিকস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে যন্ত্রটি কেনা হয়। ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি বুঝে পায়। হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম ও হার্টে রিং পরানোসহ জটিল চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক এই যন্ত্রটি কেনা হলেও দীর্ঘ প্রায় এক দশকেও তা চালু করা হয়নি।
হাসপাতালের দায়িত্বরত ইলেকট্রো-মেডিকো টেকনিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম জানান, যন্ত্রটি স্থাপনের পর তা চালু করে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু তৎকালীন সময়ে মেশিনটি চালু না করেই ঠিকাদারকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে যন্ত্রটি সচল করার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। সর্বশেষ চলতি বছরের ১১ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
অভিযানের বিষয়ে ফরিদপুর জেলা সমন্বিত দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়া এবং কেনাকাটাসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পুরো নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে।"
