নোয়াখালীতে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটুনি, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪

নোয়াখালী সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রাম থেকে কবির হোসেন (৩৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চুরির অভিযোগে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিহত কবির হোসেন উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার গাইন বাড়ির মৃত হানিফের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে কয়েক দফায় কবিরকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান।

পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সোমবার জেলা শহরের সোনাপুর ফিলিং স্টেশনের পাশের একটি স্টিল ফার্নিচারের দোকান থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কবিরকে চোর হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে এ ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় কয়েকজন লোক কবিরকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ এলাকার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বেঁধে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একপর্যায়ে কবিরকে মোটরসাইকেলের পেছনে রশি দিয়ে বেঁধে মাটিতে ফেলে রাস্তা দিয়ে টেনে-হিঁচড়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে আহত কবিরকে একটি অটোরিকশায় করে মাইজদীর দিকে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাকে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে নিয়ে আবারও মারধর করা হলে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। পরে এলাকার আজু মেম্বারের বাড়ির পাশের সড়কে তার মরদেহ ফেলে যাওয়া হয়।

সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান জানান, বিকেল ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, দেবীপুরের একটি সড়কের পাশে করইগাছের নিচে রশি দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে আছে। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, নিহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে নিয়ে আসা ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা এবং তার হাত বাঁধার কাজে ব্যবহৃত নাইলনের রশি জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ইত্তেফাক/এএইচপি