ঢেপা নদীর দুই কূলে লাখো ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের ভিড়

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ২২:২১

আড়াই শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্য ও রাজ পরিবারের প্রথা অনুযায়ী ঐতিহ্যবাহী কান্তনগর মন্দির হতে শ্রীশ্রী কান্তজিউ বিগ্রহ গতকাল বুধবার দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরেক রূপ কান্তজিউ বিগ্রহ নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করে ঢেপা নদীর দু’তীর ২৫ কিলোমিটার নদীপথে লাখ লাখ ভক্ত-পুণ্যার্থীর ভিড়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উত্সবের আমেজে পরিণত হয়। ভগবানকে পুষ্প, ফল-ফলাদীসহ বিভিন্ন অর্পণ করতে আসা ভক্ত-পুণ্যার্থীরা জানায়, মনবাসনা পূর্ণ ও পাপ মোচন তথা পূণ্য অর্জন করতেই তাদের আগমন।

দিনাজপুর রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হয় আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৫শ’ বছর আগে। সেই বংশের রাজা প্রাণনাথ ১৭২২ সালে দিনাজপুর শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তরে কাহারোল উপজেলার কান্তনগর এলাকায় কান্তজিউ মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৭৫২ সালে এই মন্দিরের কাজ শেষ করেন তার পোষ্যপুত্র রামনাথ। সেই সময় থেকেই কান্তজিউ বিগ্রহ ৯ মাস কান্তনগর মন্দিরে এবং ৩ মাস দিনাজপুরের শহরের রাজবাড়ীতে অবস্থান করেন। জন্মাষ্টমীর দু’দিন আগে কান্তজিউ বিগ্রহ গতকাল বুধবার দিনাজপুরে নিয়ে আসা হয়। কাহারোল উপজেলার কান্তনগরে শ্রীশ্রী কান্তজিউ বিগ্রহ নৌপথে দিনাজপুর শহরের রাজবাড়ীর উদ্দেশ্যে যাত্রার উদ্বোধন করেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি মনোরঞ্জন শীল গোপাল।

উল্লেখ্য, ৩ মাস কান্তজিউ বিগ্রহ দিনাজপুরের রাজবাড়ীতে থাকার সময় প্রতিদিন সেখানে প্রভাতী ও সান্ধ্য নামকীর্ত্তণ অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া প্রতি বাংলা মাসের প্রথম শনিবার রাজদেবোত্তর এস্টেটের পক্ষ থেকে ভোগের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ভক্ত প্রতিদিন ভোগের ব্যবস্থা করে থাকেন।