চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার পাহাড়ে উত্পাদিত পেয়ারার এখন ভরা মৌসুম। ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় এবার পেয়ারা বাগান মালিকরা খুশী। প্রতিপিস পেয়ারা পাঁচ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে পাহাড়ি এ পেয়ারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র মতে, চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ, ছৈয়দাবাদ ও লালুটিয়া পাহাড়ে ছোটো-বড়ো প্রায় ৭০০/৮০০ পেয়ারা বাগান রয়েছে। এসব বাগানের মোট আনুমানিক পরিমাণ সাড়ে ৩০০ হেক্টর। এ ছাড়াও বাড়িঘর কিংবা পুকুর পাড়ে রয়েছে অনেক পেয়ারা গাছ। আর এসব বাগানে উত্পাদিত পেয়ারা বিক্রির জন্য চন্দনাইশ উপজেলার রওশন হাট, কাঞ্চননগর বাদামতল, খানহাট রেল স্টেশন, বাগিচা হাট ও দোহাজারী রেল স্টেশন মাঠে প্রতিদিন সকালে বসে পেয়ারা বাজার। বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয় পেয়ারার ভার। প্রতি ভার ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন সকাল থেকেই ব্যবসায়ীরা এসব হাটে এসে পেয়ারা ট্রাক ভর্তি করে তাদের নিজ নিজ স্থানে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। তাই বাজারে পেয়ারা আনা নিয়ে চলতে থাকে প্রতিযোগিতা।
কাঞ্চননগর এলাকার পেয়ারা বাগান মালিক আরিফ জানান, তার এক একর জায়াগার একটি পেয়ারা বাগান রয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পেয়ারার ফলন ভালো হয়েছে, দামও পাচ্ছেন। তিনি বলেন, পেয়ারা বিক্রির জন্য হাটে ভারে কে কার আগে আনতে পারবে তা নিয়ে প্রতিযোগিতা চলে। বিভিন্ন এলাকার পেয়ারা বাগান মালিকরা আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের এখানে বেশি পেয়ারা উত্পাদিত হয়ে থাকে; কিন্তু সরকারি বা বেসরকারিভাবে পেয়ারা সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার নেই।
চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অফিস সহকারী মো. আরিফ বলেন, দো-আঁশ মাটির কারণে শাক-সবজি থেকে আরম্ভ করে যে কোনো কিছুর ফলন ভালো হয়ে থাকে। কৃষি অফিসের মাঠকর্মীরা কৃষকদেরকে উন্নত বীজ, সার, কীটনাশকসহ নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
