ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দিয়ে বিপাকে ইনফান্তিনো

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯

ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ব্যর্থ বাণিজ্যিক উদ্যোগ, স্বচ্ছতার অভাব, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের শাস্তি প্রত্যাহার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া শান্তি পুরস্কার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ইউরোপীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের কেউ কেউ তার নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। আগামী বছরের সভাপতি নির্বাচনে বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে বিতর্কগুলো সামনে আসে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে একটি ব্যর্থ উদ্যোগের জন্য ক্ষমা চাইলেও ইনফান্তিনো সমালোচকদের সন্তুষ্ট করতে পারেননি।

কাউন্সিল সদস্যদের সঙ্গে আগে আলোচনা না করায় ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। কিন্তু প্রস্তাবিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামক প্রকল্পটির আর্থিক কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। বৈঠকে দুই মার্কিন আইনজীবী প্রকল্পটির পক্ষে উপস্থাপনা দেন। পরে জানা যায়, ফিফা তাদের উদ্যোগটি পর্যালোচনার জন্য নিয়োগ করেছিল। এতে তাদের স্বাধীনতা ও উপস্থাপনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

বিশ্বকাপে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়েও কাউন্সিলে প্রশ্ন ওঠে। এ সিদ্ধান্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তদবিরের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কাউন্সিল সদস্যরা এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। লাল কার্ডের পর শাস্তি বাতিলের সুযোগ সীমিত করতে শৃঙ্খলাবিধি সংশোধনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। তবে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর দোহায় পরবর্তী বৈঠকের আগে তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইনফান্তিনো।

ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার নিয়েও কাউন্সিল সদস্যদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ পুরস্কারটি বাতিলের পক্ষে, আবার কেউ এর উদ্দেশ্য ও বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নতুন করে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো ট্রাম্পের হাতে ট্রফি, পদক ও সনদ তুলে দেন। তবে পুরস্কারপ্রাপক নির্বাচনের প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এতে ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ফিফার ফুটবল ও সামাজিক দায়বদ্ধতাবিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের বৈঠকের আগে কমিটিকে সুপারিশ দিতে হবে। আলোচনায় পুরস্কারের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ সীমিত করা এবং বিজয়ী নির্বাচনে কঠোর মানদণ্ড চালুর বিষয়ও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক নেতাকে এমন পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

ইত্তেফাক/এএম