পানির সংকটে পাট নিয়ে বিপাকে চুয়াডাঙ্গার চাষিরা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ২২:৩২

পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না চুয়াডাঙ্গার চাষিরা। ‘আল্লায় যেন গজব দিয়িছে, আষাঢ় পেরিয়ে শ্রাবণ মাসের এক সপ্তাহ হতি গেল,- তবুও পানি হচ্ছে না। খাল বিলি এক ছটাকও পানি নেই যে সেখানে পাট জাগ দিবো। মহাজনের কাছে সুদির টেকায় ঋণ নিয়ে ১৫ কাটা জমিতে পাট চাষ করিলাম। এখন মাঠের পাট নিয়ি চিন্তায় ঘুমিতে পারছি না।’ মাঠের জমিতে উত্পাদিত পাট নিয়ে এভাবেই আঞ্চলিক ভাষায় নিজের দুর্ভোগের কথা বলছিলেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার ইব্রাহিমপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষক ইন্তাজ মণ্ডল। শুধু ইন্তাজ মণ্ডল একাই নন; চলতি বছর পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তার মতো হাজার হাজার কৃষক। পানির অভাবে তারা সবাই পাট জাগ দিতে পারছেন না।

এদিকে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলেও বৃষ্টি নেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা চুয়াডাঙ্গায়। আর এতে জেলার কয়েক হাজার পাট চাষি পড়েছেন চরম বিপাকে। পানির অভাবে তারা পাট জাগ দিতে পারছেন না। অনেক কৃষকই খেতেই শুকাতে বাধ্য হচ্ছেন স্বপ্নের ফসল পাট। এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের জেলাগুলোর কৃষক।

জেলার চারটি উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ পাটের খেত। আলমডাঙ্গা ও দামুড়হুদা উপজেলার কয়েকটি মাঠের চিত্র বলছে, বেশ আগেই পাট কাটার সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু না কাটায় অনেকটা বিবর্ণ হয়ে গেছে পাট ফসলের চেহারা।

আলমডাঙ্গা উপজেলার বড়ো গাংনী গ্রামের কৃষক আব্বাস আলী বলেন, বাপদাদার আমল থেকে আমরা পাট চাষ করে আসছি। গত বছরের মতো ভালো লাভের আশায় এবারও পাঁচ বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছিলাম। বিস্তীর্ণ খেতের সবুজ পাতা স্বপ্ন দেখাচ্ছিল সোনালি আঁশ ঘরে তোলার। কিন্তু বিধিবাম। বৃষ্টির দেখা নেই। পাট জাগ দিতে পারছি না এলাকার কোথাও।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের পাট চাষি আখের আলী বলেন, কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির দেখা নেই, মাঠের পাট কাটার সময়ও পেরিয়ে গেছে। পাট জাগ দিতে না পেরে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা ছড়াচ্ছে পাট চাষিদের মাঝে। তাদের আশঙ্কা সঠিক সময়ে পাট জাগ দিতে না পারলে ফলন বিপর্যয় হবে। এতে বড়ো অঙ্কের লোকসান হবে তাদের।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সুফী রফিকুজ্জামান বলেন, পাট চাষের জন্য চুয়াডাঙ্গার মাটি খুবই উত্তম। এ কারণে প্রতিবছর বাড়ছে আবাদ। তিনি বলেন, বৃষ্টির অভাবে সঠিক সময়ে পাট পচাতে না পারলে কিছুটা ফলন বিপর্যয় হতে পারে। তবে কৃষকদের বিকল্প উপায়ে পাট পচানোর পরামর্শ দিচ্ছে তারা। এজন্য রেবন রেটিং পদ্ধতিসহ পুকুর ও ডোবা-নালাগুলোতে সেচের পানিতে ভরাট করে পাট পচানোর জন্য কৃষকদের বলা হচ্ছে।