সৌদি আরবে ওমরাহ যাত্রীদের ভিড় এড়িয়ে নির্বিঘ্নে ইবাদত ও চলাচলের সুযোগ করে দিতে চালু করা হয়েছে নতুন ডিজিটাল সেবা। এর মাধ্যমে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে সরাসরি ভিড়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল মানচিত্রের সাহায্যে দুই পবিত্র মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র এবং যাতায়াতের পথ সহজেই খুঁজে নিতে পারবেন মুসল্লিরা।
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সেবার মান উন্নত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি সমবেত হন মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে ওমরাহর মৌসুম, রমজান মাস এবং ছুটির দিনগুলোতে মুসল্লিদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল, তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করা এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সৌদি কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এ পরিস্থিতিতে মুসল্লিদের চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করা এবং ভিড় ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা বাড়াতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
নতুন এই ডিজিটাল সেবার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, পবিত্র কাবা শরিফের চারপাশে তাওয়াফের এলাকা এবং সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী সাঈয়ের পথে ভিড়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানার সুযোগ। এর ফলে ওমরাহযাত্রীরা সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইবাদতের সময় ও চলাচলের পরিকল্পনা করতে পারবেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা এবং চলাচলের চাপ কমাতেও সেবাটি সহায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে বয়স্ক মুসল্লি, শিশুদের সঙ্গে আসা পরিবার এবং শারীরিকভাবে চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য আগাম তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভিড়ের তথ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিলেও এটি সব সময় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষার নিশ্চয়তা দেয় না; মুসল্লিদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে।
এ সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল মানচিত্র, যার মাধ্যমে দুই পবিত্র মসজিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ, সেবাকেন্দ্র ও প্রয়োজনীয় স্থাপনার অবস্থান জানা যাবে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মানচিত্রে প্রায় ৯৫০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও পয়েন্ট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ১৭টিরও বেশি শ্রেণিতে এক লাখের বেশি সম্ভাব্য চলাচলের পথের নির্দেশনা রাখা হয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট কোনো স্থান বা সেবা খুঁজে পেতে মুসল্লিদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিজিটাল মানচিত্রে বিভিন্ন স্থান ও সেবা শনাক্ত করার সুবিধা থাকায় অপরিচিত পরিবেশে আসা বিদেশি ওমরাহযাত্রীদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে আসা মুসল্লিরা প্রয়োজনীয় স্থানের অবস্থান ও যাতায়াতের পথ সম্পর্কে আগাম ধারণা নিতে পারবেন। এতে দুই পবিত্র মসজিদের বিস্তৃত প্রাঙ্গণে চলাচল এবং প্রয়োজনীয় সেবা খুঁজে নেওয়া আরও সহজ হতে পারে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের সুবিধার বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থায় গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের জন্য সহজে প্রবেশযোগ্য স্থান এবং উপযোগী চলাচলের পথ চিহ্নিত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থাপিত ডিজিটাল স্ক্রিন ও বিভিন্ন স্থানে থাকা কিউআর কোডের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব সুবিধা মুসল্লিদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি সেবাগ্রহণে স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
সৌদি আরবে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের চলাচল সহজ করা এবং পবিত্র স্থানগুলোতে সেবার মান উন্নত করা দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম অগ্রাধিকার। সরাসরি ভিড়ের তথ্য এবং ডিজিটাল মানচিত্রের সমন্বিত ব্যবহার সেই প্রচেষ্টাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করছে।
সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের মাধ্যমে ওমরাহযাত্রীরা ভিড়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে আগাম ধারণা নিয়ে তাদের চলাচল ও ইবাদতের পরিকল্পনা করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এতে সময় সাশ্রয়, অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা কমানো এবং পবিত্র দুই মসজিদে ইবাদতের অভিজ্ঞতা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করার সুযোগ তৈরি হবে।
