স্ত্রীকে ‘যাও’ বললেই তালাকের প্রশ্নে শরিয়তের ব্যাখ্যা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪৮

তালাকের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে স্বামী-স্ত্রীর আজীবনের চেনা সম্পর্কটি নিমিষেই অচেনা হয়ে যায়। যদিও ইসলামে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিচ্ছেদের পথ খোলা রাখা হয়েছে, তবে এই প্রক্রিয়াকে সবসময় নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামি শরিয়তে তালাককে ‘সর্বনিকৃষ্ট হালাল’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা মনে করিয়ে দেয় যে-বৈধ হলেও দাম্পত্য বিচ্ছেদ কখনোই কাম্য নয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে হালাল বিষয়ের মধ্যে তালাকের চেয়ে অধিকতর ঘৃণিত আর কিছু নেই।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৭)। 

স্বামী যদি রাগ করে স্ত্রীকে বলে ‘চলে যাও’ বা ‘যাও’ তাহলে কী তালাক হয়ে যাবে? যেমন একজন জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছেন- ‘আমার স্ত্রী আমার শ্বশুর বাড়িতে আছে। আমার শ্বশুর বাড়ির সাথে আমার মনোমালিন্য চলছে। তারা বলেছে, আমার স্ত্রীকে আমার কাছে পাঠাবে না। এমতাবস্থায় আমি আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষীর সাথে এই বিষয়ে আলাপ করেছি। আলাপের এক পর্যায়ে আমি বলি, আমার স্ত্রী যদি আমার কাছে আসে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি তার বাবা মায়ের দিকে যায় তাহলে আমি বলবো ‘যাও’ বা এই রকম কিছু বলেছি। কিন্তু আমার এখন মনে পড়ছে না। এখন এ নিয়ে আমি অনেক দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। এতে কি আমার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে?’

এ বিষয়ে ফেকাহবিদদের মতামত হলো, প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনা অনুযায়ী, আপনি আপনার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি কিছু বলেননি; বরং একজন শুভাকাঙ্ক্ষীর সঙ্গে আলাপের সময় স্ত্রী যদি আপনার কাছে আসে তাহলে ভালো, আর যদি বাবা-মায়ের পক্ষেই থাকতে চায়, তাহলে ‘যাও’ বা এ ধরনের কিছু বলবেন-এমন কথা বলেছেন। এখন আপনি ঠিক কী শব্দ ব্যবহার করেছিলেন, তাও নিশ্চিতভাবে মনে নেই।

এ অবস্থায় শুধু এ ধরনের অস্পষ্ট কথার দ্বারা তালাক সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে না। কারণ, তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য তালাকবাচক স্পষ্ট শব্দ অথবা এমন কেনায়া (রূপক) শব্দ প্রয়োজন, যা তালাকের নিয়তে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে। আর সন্দেহ, অনুমান বা স্মৃতির অস্পষ্টতার ভিত্তিতে তালাক সাব্যস্ত করা হয় না।

হানাফি ফিকহের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো অর্থাৎ, নিশ্চিত বিষয় সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না। দাম্পত্য সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত। তাই শুধু সন্দেহ, স্মৃতির অস্পষ্টতা বা ওয়াসওয়াসার কারণে তা ভেঙে গেছে বলে গণ্য করা যাবে না। অতএব, প্রশ্নে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে আপনার স্ত্রীর ওপর কোনো তালাক সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে না।

তবে ভবিষ্যতে তালাক-সংক্রান্ত শব্দ বা ইঙ্গিতপূর্ণ বাক্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। রাগ বা আবেগের সময় এ ধরনের কথা বলা অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ইত্তেফাক/এসএইচ