মাদক কারবারের অভিযোগ

পুলিশ হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালানো সাবেক বিএনপি নেতাকে ১৮ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১০

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় ডিবি পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালানোর প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর মমতাজুর রহমান এক ব্যক্তিকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মমতাজুরের বিরুদ্ধে মাদক কারবারি বলে ভাষ্য পুলিশের।

রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে তাকে জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খোরাগাছ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাত ৮টার দিকে জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকা থেকে মাদক কারবারের অভিযোগে আটকের পর ডিবি পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান তিনি।

এসব তথ্যের সত্যতা  নিশ্চিত করেছেন রংপুর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. নবিউল হাসান।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপালপুর ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারে এর আগেও একাধিকবার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ শনিবার রাত ৮টার দিকে রংপুর ডিবি পুলিশের একটি সাদা পোশাকধারী দল শিবপুর এলাকা থেকে মমতাজুর রহমানকে মাদকসহ আটক করে হাতকড়া পরায়। পরে পুলিশ তাকে নিয়ে গাড়িতে তোলার সময় কৌশলে হাতকড়াসহ পালিয়ে যায়। গভীর রাতে গ্রাম পুলিশের সহায়তায় হাতকড়াটি উদ্ধার করা হলেও আসামিকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এই মমতাজুর গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত হন।

বদরগঞ্জ উপজেলায় গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুর রহমান বকুল গণমাধ্যমকে জানান, মমতাজুর রহমান একসময় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। যারা এ ধরনের অপরাধমূলক কাজে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রংপুর ডিবি পুলিশের ওসি নবীউল হাসান জানান, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার খোরাগাছ এলাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর এলাকায় তাকে গ্রেপ্তারের পর কৌশলে পালিয়ে যায় মাদক ব্যবসায়ী মমতাজুর রহমান। বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার মাদক আইনে কোর্টে চালান দেওয়া হবে।

বদরগঞ্জ থানার ওসি জাহিদ হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমরা ডিবি পুলিশকে সহায়তা করার জন্য এলাকায় গিয়েছিলাম। গভীর রাতে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি