একই অঘটনে ৩ বছরের ব্যবধানে ৩ সন্তানের মৃত্যু, দিশেহারা বাবা-মা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৩

তিন সন্তান নিয়ে সুখে-দুঃখে দিন কাটছিল নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার শ্রী কৃষ্ণ কাহার ও পাখি রানী কাহার দম্পতির। কিন্তু হঠাৎ পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় তাদের বড় ছেলেটি। এরপর দুই মেয়েকে নিয়েই ‍বুকভরা আশা নিয়ে বেঁচে ছিলেন বাবা-মা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস! যে অঘটনে তিন বছর আগে হারিয়েছিলেন বড় ছেলেকে, ঠিক সেই অঘটনেই প্রাণ গেল দুই মেয়ের।

মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিন সন্তাকেই হারিয়ে এখন দিশেহারা এই দম্পতি।

রোববার (২৫ অক্টেবর) দুপর ১২টার দিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরআমান উল্যা গ্রামের একটি পুকুরে ডুবে ওই দুই বোনের মৃত্যু হয়।

পুকুরে ডুবে মৃত্যু হওয়া দুই বোন হলো- স্বর্ণা রানী কাহার (৬) ও রুপা রানী  কাহার (৫)। তাদের দুজনের মধ্যে স্বর্ণা রানী চর আমানুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় ও পরিবারের বরাতে পুলিশ জানায়, রোববার দুপুর ১২টার  আগে কোনো এক সময় মা ও বাবার অজান্তে দুই বোন বাড়ির পাশের পুকুরে একসঙ্গে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে যায়। এসময় তাদের মা রান্নাঘরে ও বাবা ছিলেন দোকানে। পরিবারের লোকজন দুই বোনকে না দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের মা পুকুরে পানিতে বুদবুদ  উঠতে দেখেন। এতে তার সন্দেহ হলে তিনি পুকুরের পানিতে তল্লাশি করে  দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।

চরজব্বার থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সেখানে পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি প্রায় তিন বছর আগে এই দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় ছেলেটিও পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। রোববার তাদের শেষ দুই মেয়ের মৃত্যুতে পরিবারে সন্তান শূন্য হয়ে পড়ায় তারা খুব আহাজারি করছিল।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশু দুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি