বিয়ে ভাঙা এবং সতীর্থ জর্জিয়া ভলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের কারণে কঠিন সময় পার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দলের সহ-অধিনায়ক অ্যাশ গার্ডনার। ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় মানসিক চাপের মুখে পড়লেও ক্রিকেট এবং সতীর্থদের সমর্থন তাকে পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
গত জুলাইয়ে মনিকা রাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অভিযোগ করেন, জর্জিয়া ভলের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে তার আর গার্ডনারের দাম্পত্য জীবনের অবসান হয়েছে। ভলের একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘এই সেই ব্যক্তি, যার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’ গার্ডনার ও ভল বর্তমানে সম্পর্কে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) উত্তর সিডনিতে সিডনি সিক্সার্সের মৌসুম শুরুর অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ২৯ বছর বয়সী গার্ডনার। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট আমার জন্য সত্যিই দারুণ এক আশ্রয় হয়ে উঠেছে। এটা অনেকটা আলোর মতো কাজ করেছে।’
ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের মধ্যেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাকে। গার্ডনারের ভাষায়, ‘বিষয়টি অবশ্যই কঠিন ছিল। হ্যাঁ, এটা আমার ব্যক্তিগত জীবন। কিন্তু এসব ঘটনা কীভাবে যেন জনসমক্ষে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।’
ক্যারিয়ারে সতীর্থদের সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘ক্যারিয়ারে অসাধারণ কিছু বন্ধু পেয়েছি। বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর নির্ভর করতে পারাটা আমার জন্য অনেক মূল্যবান ছিল।’
চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের প্রভাব সম্পর্কে কথা বলেন গার্ডনার। তিনি স্বীকার করেন, এ ঘটনায় তার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি এত ব্যাপকভাবে জনসমক্ষে আলোচিত হবে, তা তিনি ভাবতে পারেননি। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন স্ত্রী মনিকা রাইটের অবস্থানও বুঝতে পারেন বলে জানান তিনি। তবে পরিস্থিতি কতটা ছড়িয়ে পড়বে, তা বুঝতে না পারার ক্ষেত্রে নিজের সরলতাকেও দায়ী করেন এই ক্রিকেটার। এর আগে আগস্টে দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় সৃষ্ট কষ্টের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনের বিতর্কের মধ্যেও মাঠে নিজের পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন গার্ডনার। অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবে দ্য হান্ড্রেডে ট্রেন্ট রকেটসকে শিরোপা জিতিয়েছেন তিনি। এ সময়ে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেছেন।
গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৪৫ বলে ৮৪ রান করার পাশাপাশি ১৭ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন গার্ডনার। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি। তার মতে, বিভিন্ন দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তাকে ব্যক্তিগত পরিস্থিতির বাইরে এসে সতীর্থদের প্রয়োজনের দিকে মনোযোগ দিতে সহায়তা করেছে।
গার্ডনার বলেন, ‘আমি যে দলেই খেলি না কেন, সব সময় চেষ্টা করি সতীর্থদের জন্য সেরা একজন খেলোয়াড় হতে। এই সময়ের মধ্যে কয়েকটি দলের অধিনায়কত্ব করার দায়িত্ব আমাকে অন্যদের দিকে মনোযোগ ফেরাতেও সাহায্য করেছে।’
ব্যক্তিগত জীবনে নানা ঘটনা চললেও দল ও ক্লাবের জন্য অবদান রাখাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ‘আমার জীবনে কিছু ঘটনা ঘটছে, এটা সত্যি। কিন্তু সতীর্থদের এবং যেসব ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করি, তাদের জন্য নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, মাঠের পারফরম্যান্সেই তার প্রমাণ দিতে পারব,’ বলেন গার্ডনার।
শুক্রবার ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) সিডনি সিক্সার্সের অভিযান শুরু হবে। ওই ম্যাচে দলটির নেতৃত্ব দেবেন অ্যাশ গার্ডনার।
