বিশেষ যে কারণে হোটেলে মিলবে আধাগ্লাস পানি

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০২

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনেতে সম্পূর্ণভাবে নিরামিষভোজীদের জন্য পরিচিত কালিঙ্গা রেস্তোরাঁতে এসে বসা মঙ্গেশকর দম্পতিকে রেস্তরাঁর কর্মী জানতে চাইলেন, পানি চাই কিনা? গৌরীপুজা মঙ্গেশকর বলেন, আমি হ্যাঁ-সূচক জবাব দিলে সে আমাকে অর্ধেক গ্লাস পানি দিয়ে যায়। এটা দেখে আমি তো বিস্মিত হয়ে গেলাম যে আমার একার সঙ্গেই এমনটা করা হচ্ছে। পরে দেখলাম সে আমার স্বামীর জন্যও অর্ধেক গ্লাস জল ঢেলে দিয়েছে। এক মুহূর্তের জন্য, মঙ্গেশকার আশ্চর্য হয়েছিলেন যে তার গ্লাসের অর্ধেকটা পূর্ণ না-কি খালি ছিল! শহরের অনেকগুলো হোটেল বা রেস্তরাঁয় এভাবেই অতিথিদের সার্ভ করা হচ্ছে কেবল আধাগ্লাস পানি। প্রায় ৪০০ রেস্টুরেন্ট পানির ব্যবহার কমাতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে পুনের পৌর কর্তৃপক্ষ । খবর বিবিসি বাংলা

ভারতের অনেক শহর যেভাবে পানির সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সে প্রেক্ষাপটে ব্যতিক্রমী এই উপায়ে পুনে সমস্যাটিকে মোকাবিলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। পুনে রেস্তোরাঁ এবং হোটেল ব্যবসায়ীদের অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গণেশ শেঠি বলেন, পানি সংরক্ষণের জন্য আমরা ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছি। আমরা কেবল আধাগ্লাস পানিই দিচ্ছি টেবিলে এবং কেউ না চাইলে সেটা আর রিফিল করা হয় না। তাদের ব্যবহারের পর বেঁচে যাওয়া পানিও কাজে লাগানো হয়। পুনঃনবায়নের জন্য পানি শোধনাগারে চলে যায় এবং মেঝে পরিষ্কারে কাজে ব্যবহার করা হয়। কালিঙ্গা রেস্তেরাঁয় প্রতিদিন প্রায় ৮০০ জন গ্রাহক আসেন এবং কেবল আধা-গ্লাস পানি সার্ভ করার মধ্য দিয়ে রেস্তরাঁটি দৈনিক প্রায় ৮০০ লিটার পানি বাঁচাতে পেরেছে। প্রতিটি ফোঁটা মূল্যবান এবং যদি ভবিষ্যতের জন্য বাঁচাতে চাই তাহলে এখনই কাজ শুরু করতে হবে। ৮৩ বছরের পুরনো স্থাপনা পুনা গেস্ট হাউজের মালিক কিশোর সরপোদ্দার জানান, তারা যে আধাগ্লাস পানি দিচ্ছেন শুধু তা-ই নয়, সেটা দিচ্ছেন আগের চেয়ে ছোট আকারের গ্লাসে।

পুনে শহরকে শিক্ষার এবং সংস্কৃতির কেন্দ্র বলা হয়। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু একে বর্ণনা করেছিলেন, ‘ভারতের অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ’। ৪০ লাখ লোকের শহরটিতে বর্তমানের পানির সঙ্কট তীব্র। শেঠি আরো বলেন, শহরটিতে সবচেয়ে প্রথম বড় ধরনের পানির অভাব দেখা দেয় দুই বছর আগে। ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ এই দুই মাস আমাদের পানির সরবরাহ কমে অর্ধেকে নেমে আসে। দুইদিনে আমরা একবার পানির দেখা পাই। সরবরাহ করা পানি কি কাজে ব্যবহার করা যাবে আর কি কাজে করা যাবে না সে বিষয়ে নগর কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশনা জারি রয়েছে।

পুনের পানি সংরক্ষণ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কর্নেল শশিকান্ত ডালভি বলেন, বিষয়টি ছিল খুবই গুরুতর। এই বছর পরিস্থিতি আরো খারাপ। গ্রীষ্মের মাসগুলোতে এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে যে সামলাবো আমরা? এই বছরের শুরুর দিকে সরকারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত সর্বকালের মধ্যে সবচেয়ে বাজে পানির সংকটে ভুগছে। ৬০ কোটি মানুষ এর কারণে কোনো না কোনোভাবে সমস্যার শিকার। বিভিন্ন গবেষণা বলছে, পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানি ফুরিয়ে যাবে ২১টি শহরে। মে মাসে জনপ্রিয় পর্যটন শহর শিমলা পানিশূন্য হয়ে যায়। গতবছর ব্যাঙ্গালোর শহর জলহীন হয়ে যাওয়ার খবর আসে।