কয়েক প্রজন্ম ধরেই বিশ্বজুড়ে ব্যাটসম্যানদের, বিশেষ করে আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানদের চূড়ান্ত আদর্শ ভিভ রিচার্ডস। আজও তরুণ ব্যাটসম্যানদের জন্য অসাধারণ প্রেরণা তিনি। আরো অনেকের মতো ভারতের অধিনায়ক ও এই সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলিও ছোটোবেলা থেকে ভিভকেই আদর্শ মেনে বড়ো হয়ে উঠেছেন। সেই ভিভের মুখোমুখি হয়েছিলেন কোহলি। অ্যান্টিগায় গতকাল শুরু হওয়া প্রথম টেস্টের প্রাক্কালে নিজের আদর্শ এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের সাক্ষাত্কার নেন ভারতীয় অধিনায়ক। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড প্রকাশিত এই সাক্ষাত্কারে ভিভ বলেছেন, সাহসই ব্যাটসম্যানদের সেরা অস্ত্র।
ভিভ রিচার্ডস কখনো হেলমেট পরে ব্যাটিং করেননি। যখন শুরু করেছেন, তখন এই জিনিসটা আবিষ্কার হয়নি। আর আবিষ্কারের পরেও ভিভ সেটা পরতেন না। সেই প্রসঙ্গ টেনে সাক্ষাত্কারে কোহলি বলেছেন, ‘আমি যখনই আপনার ব্যাটিং করতে যাওয়ার ভিডিও দেখি, আপনি একটা হ্যাট পরতেন; কোনো হেলমেট ছিল না তখন। যখন সেটা ছিল, তখনো আপনি না পরার সিদ্ধান্ত নিলেন। আমি জানি, তখন উইকেট আজকের মতো করে সংরক্ষণ করা বা কাভার করা হতো না। তখন ব্যাটিং করাটা কেমন অভিজ্ঞতা ছিল? আপনি কোনো প্রতিরক্ষা ছাড়াই যখন ব্যাট করতে নামতেন, মাথার মধ্যে কী কাজ করত? তখন বাউন্সারের কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না। তারপরও আপনি ঐভাবে প্রভাব বিস্তার করে খেলতেন। আপনার মনোভাবটা তখন কী থাকত?’
উত্তরে ভিভ রিচার্ডসুলভ কথা দিয়েই শুরু করেছেন এই ‘অ্যান্টিগা জায়ান্ট’। বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করতাম, আমি আসল পুরুষ। এটা হয়ত শুনতে একটু উদ্ধত শোনাবে। কিন্তু আমি সব সময়ই মনে করতাম, আমি এমন একটা খেলা খেলছি, যেটাকে আমি চিনি। আমি সব সময় নিজেকে সমর্থন করে গেছি।’
এরপর ভিভ বলেছেন, তিনি হেলমেট নিয়ে খেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেটা খুব অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা ছিল বলে বলেছেন, ‘আপনি নিজেকে সমর্থন করেছেন, আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বে। হেলমেট নিয়ে খেলা! আমি চেষ্টা করেছি। আমি আপনাকে মিথ্যা বলব না। কিন্তু আমার খুব অস্বস্তি লেগেছে। আমি মনে করেছি, আমার ক্যাপ, যে মেরুন ক্যাপ আমাকে দেওয়া হয়েছিল, ওটাই যথেষ্ট। আমি ওটা নিয়ে খুব গর্বিত ছিলাম। আমার মনোভাব ছিল যে, আমি ব্যাটিং করার জন্য খুব যোগ্য মানুষ। আমি যদি আঘাত পাই, সেটা ঈশ্বরের ইচ্ছা। তবে আমি বাঁচতে পারব বলেই আমার বিশ্বাস ছিল।’
এরপর কোহলি নিজেও তার ফাস্ট বোলিং খেলার অভিজ্ঞতা বলেছেন ভিভকে। বলেছেন, শুরুতেই আঘাত পেলে বরং ভয়টা কেটে যায়, ‘আমি সব সময় মনে করি, শুরুর দিকে একটা আঘাত পাওয়া ভালো। সব সময় আঘাত পেতে পারি, এই ভয়ে থাকার চেয়ে শুরুতে আঘাত পাওয়া ভালো। ফলে আমি শুরুর দিকে আহত হতেই পছন্দ করি। এরপর নিজেকে অনুপ্রাণিত করতে কষ্ট হয় না। এরপর মনে হয় নিজেকে বলি—যথেষ্ট হয়েছে। আর এই সুযোগ দেবো না।’
ভিভ রিচার্ডস এই পর্যায়ে বলেছেন, ক্রিকেটে বলের আঘাত পাওয়াটা হলো খেলার অংশ। এটাকে সঙ্গী করেই এগোতে হবে, ‘এটা নিয়ে পরিষ্কার থাকা ভালো যে, আপনি ব্যাটিং করতে নামলে ব্যথা পাবেন। আসলে সাফল্য নির্ভর করে একবার আহত হওয়ার পর আপনি কিভাবে ফিরে এলেন, তার ওপর। আগের দিনে, যখন এই চেস্ট গার্ড ছিল না, তখন সব আঘাত পাজরেই নিতে হতো। এটাতে ব্যথা তো লাগেই। কিন্তু এটা আসলে খেলার অংশই।’
