ডেঙ্গুর ভয়াবহতার মধ্যেও ৫৪ নার্স বদলি

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৯, ২১:৫৩

ডেঙ্গুর ভয়াবহতার মধ্যেও ৫৪ নার্সকে বদলি করা হলো। এরমধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে ৮ জন নার্স এবং বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ৭ নার্স রয়েছেন। ডেঙ্গু জ্বরের এই মৌসুমে চিকিত্সা সেবা যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য ডাক্তার-নার্স বদলি না করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু এই নির্দেশ অমান্য করে কিভাবে নার্স বদলির ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে নার্সিং সেক্টর ও মেডিক্যাল কলেজগুলোতে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

নিয়মানুযায়ী নার্সিং প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ-বদলি করা হয়ে থাকে। আর দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা অর্থাত্ সিনিয়র স্টাফ নার্সদের বদলি অধিদপ্তর থেকে করার কথা। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের গঠিত বদলি কমিটি সিনিয়র স্টাফ নার্সদের বদলি করে আসছে। যা নিয়ম বর্হিভূত। সেখানে মন্ত্রণালয়ের একটি তালিকা একজন কর্মকর্তা বদলি কমিটির হাতে ধরিয়ে দেন। আর সেটি অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তার অনিয়ম সম্পর্কে ইতিপূর্বে বিএমএ’র একজন নেতা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।  বিএমএ’র এই নেতা গতকাল ইত্তেফাককে মেডিক্যাল কলেজ থেকে নার্সদের বদলির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রোগীর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পাশাপাশি নার্সদের ভূমিকাও কম নয়। চিকিত্সকরা ট্রিটমেন্ট দিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে সার্বিকভাবে সেবা প্রদান করে থাকেন নার্সরা। ডেঙ্গুর ভয়াবহতার মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের নার্সদের বদলি করা যুক্তিযুক্ত হলেও মেডিক্যাল কলেজগুলোতে বদলি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, নার্সিং সংগঠনের কর্মকর্তা, মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষসহ অনেকে। তারা বলেন, মেডিক্যাল কলেজগুলোতে এখন ডেঙ্গুর রোগীর প্রচন্ড চাপ। যেখানে বাড়তি ডাক্তার-নার্স প্রয়োজন, সেখানে তাদের বদলি করা হচ্ছে। এতে কি সেবা বিঘ্নিত হবে না? নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর কারোর হাতের পুতুল হতে পারে না। ডেঙ্গুর মৌসুম চলে গেলে এ ব্যাপারে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে নার্সিং সংগঠনগুলো।

নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নার্সিং) শাহাদাত হোসেন বলেন, আগের  মতোই সাধারণ নিয়মেই নার্সদের বদলি করা হয়েছে। তবে যেসব মেডিক্যাল কলেজ থেকে নার্সদের বদলি করা হয়েছে, সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নার্স এনে দেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকা শহরের চেয়ে এখন ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগী বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকারি হিসেবে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ হাজার ৫৯২ জন। তবে বেসরকারি হিসেবে দুই লক্ষাধিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। গতকাল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরো ৭ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৫৯৭ জন মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর এ সময় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৬ হাজার ১৪৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে যত রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তার থেকে বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন। রাজধানীতে ভর্তি হয়েছেন ৭৫০ জন আর সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৭৫৬ জন। দেশের অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮২২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৯ জন।

ডেঙ্গুতে আরো ৭ জন মারা গেছেন

ডেঙ্গুতে গতকাল আরো ৭ জন মারা গেছেন। গতকাল ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা  গেছেন  গিয়াস উদ্দিন নামে দুই সন্তানের বাবা। গিয়াস চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার পশ্চিম শিংরা গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে। দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল  কলেজ হাসপাতালে মারা যান আরেক নারী। এদিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গতকাল ভোরে মুনির হোসেন (৩৪) নামে এক ব্যক্তি মারা যান। মুনির মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার রুকন্দি গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। বুধবার রাতে মিটফোর্ড হাসপাতালে ডেঙ্গু সেলে চিকিত্সাধীন অবস্থায় দুই নারী মারা গেছেন। নিহতরা হলো কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিনজিরা এলাকার তাসমীম (১৭) ও কদমতলী থানার জুরাইন এলাকার তাসনিন (৩৫)। গতকাল সকালে সাভারে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মোঃ হানিফ (৩৯) নামে এক প্রাইভেটকার চালক মারা গেছেন। হানিফ সাভারের টঙ্গাবাড়ি এলাকার মাফি ইসলামের ছেলে। আলমগীর গাজী (১৪) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্র খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছে। সে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শ্রীকলা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।