স্ত্রীসহ ৫ থেকে ৭ জনের মারধরে স্বামীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার স্ত্রী

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:১০

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মোহাম্মদ হাশেমকে (৩৭) তার স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে মারধর করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মারধরের একপর্যায়ে তাকে সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আয়শা আকতারকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাতটার দিকে উপজেলার বরুমতি সেতু এলাকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা হাশেমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাদশাপাড়া এলাকার বানু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, নিহতের বাবা বানু মিয়ার করা হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা আকতারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে চন্দনাইশ থানায় মামলাটি করা হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে বরুমতি সেতুর পাশে সড়কের ধারে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে ছিলেন হাশেম। তার ডান পা থেকে রক্ত ঝরছিল। এ সময় তিনি সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের দিকে হাত নেড়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন। পরে কয়েকজন পথচারী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে হাশেম হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী আয়শা আকতারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিহত হাশেমের বড় ভাই মোহাম্মদ মোস্তাক জানান, প্রায় ১৬ বছর আগে একই উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার চাগাচর এলাকার বাসিন্দা ও তাদের ফুফাতো বোন আয়শা আকতারের সঙ্গে হাশেমের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

মোস্তাক বলেন, চার ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগির পর হাশেম বাবার কাছ থেকে পাওয়া নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান। সেখানে স্ত্রীর নামে সম্পত্তি লিখে দিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতেন। প্রায় চার বছর আগে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। সেখান থেকে প্রায় এক বছর আগে দেশে ফেরেন।

মোস্তাকের অভিযোগ, দেশে ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে হাশেমের বিরোধ বাড়তে থাকে। এ সময় তার স্ত্রী ও স্বজনেরা তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। অন্য লোকজন দিয়েও তাকে মারধর করানো হতো। গত মাসেও তার স্ত্রী মারধর করে হাশেমের মাথা ফাটিয়ে দেন। গত বুধবার রাতে শ্বশুরবাড়িতে তাকে আবারও মারধর করা হয়। পরদিন ভোর পাঁচটার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বরুমতি সেতুর পাশে ফেলে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, হাশেমকে তার স্ত্রীসহ পাঁচ থেকে সাতজন মিলে মারধর করেছেন বলে পুলিশ তথ্য পেয়েছে। ওই মারধরে তার ডান পা ভেঙে যায়। এ ঘটনায় তার বাবা বানু মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমএএম