গঙ্গাচড়ায় আগাম শীতের সবজি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১৯:৪২

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে ক্ষতি হলেও রংপুরের গঙ্গাচড়ার কৃষকরা এখন শীতের আগাম সবজি চাষে মনযোগী হয়েছে। আগাম ফসলে অধিক মুনাফা পাওয়া যায় এ আশায় কৃষকরা ফসলের মাঠে এখন ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। মুলা শীতের সবজি হলেও গঙ্গাচড়ার বাজারে পাওয়া যাচ্ছে মুলা। কৃষকরা এখন অনেক সচেতন হওয়ার কারণে আগাম সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। তাছাড়া ধান, পাট, আলুর দাম না পাওয়ার কারণে সবজি এখন মূল ফসল হিসেবে কৃষকের পরিচিত হচ্ছে। সারা বছর ধরে তারা সবজি চাষ করছে। সরেজমিনে পশ্চিম মান্দ্রাইন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমির এক পাশে পাটি করে চারা তৈরি করা হয়েছে। বৃষ্টি থেকে রক্ষার্থে পলিথিনের চাউনি দিয়ে চারাগুলোকে ঢেকে রাখা হয়েছে। কৃষকরা সবজি খেতে নিড়ানি দিচ্ছে।  মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে বেগুন, মুলা,  লাউ খেত। দিনে দিনে বেড়ে উঠছে সবজি চারা গাছগুলো। বেগুনে ফুল এসেছে। হয়তো ১৫/২০ দিন পরে বেগুন বিক্রি শুরু করবেন কৃষকরা। কেউবা সবজি খেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন। ঐ গ্রামের ভূপতি এ বছর ৬০ শতক জমিতে বেগুন লাগিয়েছেন। তিনি ইতিমধ্যে ৫ হাজার টাকার শাক বিক্রি করেছেন। মিলন ২২ শতক, যুগল ২৫ শতক, বিমল মাস্টার ৫০ শতক জমিতে বেগুন লাগিয়েছেন। মতিয়ার রহমান ৫৫ শতক জমিতে বেগুন, জগদিস ৫০ শতক বেগুন ও ৪০ শতক জমিতে মুলা ও মানিক ৬০ শতক জমিতে বেগুন লাগিয়েছেন। কৃষকরা জানান, গত বছর তারা বেগুনের দাম ভালোই পেয়েছে। এছাড়া তোতা মিয়া হরিদাস, ছিলমন, শ্যামল, নন্দ, বিমল, মিঠুন, নির্মলসহ অনেকে আগাম সবজি চাষ করেছেন। পশ্চিম মান্দ্রাইন ছাড়াও দক্ষিণ চেংমারী, নবনীদাস, হাবু  এলাকাতেও আগাম সবজি চাষ হয়েছে। তবে অনেকেই বালাইনাশক ছাড়াই সেক্স ফেরোমন পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করেছে।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম সবজি চাষ করা হয়েছে। দিন দিন এর পরিমাণ বাড়বে। পশ্চিম নবসীদাস ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা বেগম বলেন, কৃষকদের এখন আগাম সবজি চাষে আগ্রহ বেশি। অনেকে এর মধ্যে ফুলকপি কিংবা বাঁধা কপিও লাগাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, এগুলো খরিপ-২ মৌসুমে আগাম সবজি। চেংমারী মাদ্রাইন এলাকার মাটি বেলে-দোআঁশ। খুব বেশি বৃষ্টি না হলে ক্ষতি তেমন একটা হয় না। তিনি আরো বলেন, কৃষকরা এখন অনেক সচেতন। আগাম ফসল চাষে কৃষকরা অধিক মুনাফা পায়। তাই তো কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।