পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হওয়া সত্ত্বেও ভারত বহু বছর যাবত্ একটি নীতি মেনে আসছে। আর তা হলো, আক্রান্ত না হলে দেশটি নিজে থেকে কারো ওপর পারমাণবিক হামলা চালাবে না। কিন্তু ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই নীতি পুনরায় মূল্যায়নের সময় হয়েছে। আরেক পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে যখন দেশটির সম্পর্ক রীতিমতো উত্তেজনাকর, তখন ভারতের এমন ঘোষণায় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। -খবর বিবিসি বাংলা
গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ, যা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল, তা বিলোপের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ঐ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারত এতদিন নীতিটি মেনে এসেছে। ভবিষ্যতে ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর’ নির্ভর করবে এই নীতির বহাল থাকা বা না থাকা। রাজনাথ বলেন, ‘এই নীতি চিরস্থায়ী কিছু নয়, এবং বড়ো কোনো সংকটে পড়লে ভারত ঐ নীতিতে অটল থাকবে বিষয়টি তেমন নয়।’
এদিকে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের নীতি পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করছেন ভারতেরই অনেক বিশ্লেষক। অবসরপ্রাপ্ত লে. জেনারেল প্রকাশ মেননের যুক্তি হচ্ছে, একটি দায়িত্বশীল পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে ভারতের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও এর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ভারতের পরমাণু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ এখন ফ্যাসিস্ট, বর্ণবাদী, হিন্দু আধিপত্যবাদী প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাতে।’ তবে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার কোনো মতবাদ বা বাগ্যুদ্ধের ওপর নির্ভর করে না। বরং পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে পুরো বিষয়টি। গত সপ্তাহেই পাকিস্তান কিছুটা গোপনেই জানিয়েছে, তারা ভারতের কথা বিশ্বাস করে না। ফলে পাকিস্তান এখন আরো বেশি পরমাণু শক্তি বাড়ানোর দিকে নজর দিতে পারে। একইভাবে ভারত হয়তো পরীক্ষাও চালাবে। সংকটময় মুহূর্তে আগের চেয়ে দ্রুত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্ন চলে আসতে পারে। ফলে দেশ দুটির মধ্যে সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝির কী পরিণাম হতে পারে, সেটা এখনই পরিষ্কার বোঝা না গেলেও যা ধারণা করা যাচ্ছে তা হলো, এ অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা সামনের দিনে বাড়তে যাচ্ছে।
