জেলার উত্তরের প্রত্যন্ত অঞ্চল বীরগঞ্জের উত্তরের শেষ সীমানায় অবস্থিত উপজেলার ৩ নম্বর শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী গ্রাম। এলাকাবাসীর কাছে সুপরিচিত ঝাড়বাড়ী হাট। সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার দুদিন হাট বসে। এ হাটটি বেশ বড়ো হাট। বিভিন্ন স্থান থেকে এ হাটে লোকজন আসেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেচা-কেনা করতে। এই ঝাড়বাড়ী হাটের প্রবেশ পথেই সকলের নজর পড়ে—‘মায়ের দোয়া মাংস ভান্ডার’ নামে একটি মাংসের দোকান। এখানে শুধু ষাঁড়ের মাংসই বিক্রি করা হয়। হাটের চারদিকের ৪০/৫০ কিলোমিটার দূর থেকে ক্রেতারা ভালো মাংসের খোঁজে আসেন ‘মায়ের দোয়া মাংস ভান্ডার’ নামক এই দোকানে। ক্রেতাদের আস্থা ও বিশ্বস্ততার এ দোকানে ভালো মাংস পাওয়া যায় এ সুনাম ও সুখ্যাতি রয়েছে তিন/চারটি জেলার মানুষের কাছে। হাটের প্রবেশ পথেই এ দোকানটিতে সবার দৃষ্টি পড়ে প্রথমেই। দোকানটির মালিক একজন নারী। তার সঙ্গে দোকানে থাকেন তার ছেলে জহরুল ও ছয়/সাত জন কর্মচারী। সবাই থাকেন ব্যস্ত থেকে মহাব্যস্ত। তিন দিকে ইট দিয়ে গাঁথা দেওয়াল। সামনে একেবারেই খোলা। সাটার বা দোকানের ঝাপ নেই। এভাবেই দীর্ঘ ২০/২৫ বছর চলছে ‘মায়ের দোয়া মাংস ভান্ডার’। বিয়ে, খতনাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গ্রাম ও জেলা শহরের ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মাংস সরবরাহ করা হয়। সপ্তাহের ছয় দিনই এ দোকানে ৫/৭টি ষাঁড়ের মাংস বিক্রি করা হয়। প্রতি শুক্রবার ৯/১০টি ষাঁড়ের মাংস বিক্রি করা হয়। জমিলা এক ইমাম দিয়ে গরু জবাই করান।
নিজের জীবন সম্পর্কে জমিলা জানান, স্কুলে লেখাপড়া করতে পারেননি। ১৫ বছর বয়সেই বাবা জাকির হোসেন তাকে বিয়ে দেন বগুড়ার রফিকুল ইসলাম ভান্ডারীর সঙ্গে। তিনিও পেশায় মাংস বিক্রেতা ছিলেন। স্বামী মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে ব্যবসা বাণিজ্যে ধস নামে। ২০০০ সালের শেষ দিকে স্বামী সন্তানসহ বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন জমিলা। বাবার সামান্য জমির একটি অংশ বিক্রি করে এ মাংসের দোকান দিয়ে জীবন চলার পথ শুরু করেন তিনি। ছেলে জহরুল তখন ক্লাস নাইনের ছাত্র। জমিলা অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় স্বামী রফিকুল প্রায় তিন লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়। তারপরই তালাক হয়ে যায় জমিলার। জমিলা মাংস বিক্রি শুরু করার পরপরই পার্শ্ববর্তী মাংস ব্যবসায়ীরা তার বেচা-কেনা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দেয় এবং থানা পুলিশকেও জানায়। তবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে গরু ক্রয় করেন জমিলা। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা করেন তাই কেউ তাকে ক্ষতি করতে পারেনি বলে জানান তিনি।
