রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ২২:১৩

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় আমরা রোহিঙ্গদের জন্য সব করেছি। এখন এই অঞ্চলের বৃহত্তর শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধান করা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে আয়োজিত ‘১৫ আগস্ট ও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কথা শুনেছি। মানবিক দিক বিবেচনায় রোহিঙ্গদের জন্য সব করেছি। এখন অনুকূল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার দায়িত্ব মিয়ানমারের, কারণ তারা তাদের নাগরিক। জাপান, চীন, রাশিয়া, ভারত এখন এ বিষয়ে আমাদের সমর্থন দিচ্ছে। শক্ত অবস্থানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাজি করাতে সরকার কাজ করবে।

তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলব তারা যেন মিয়ানমারে যায়। এজন্য একটি কমিশন               করা যেতে পারে। ঐ কমিশন, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা এবং অন্য সবার এখন কাজ হবে মিয়ানমারে যাওয়া। সেখানে গিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। আমাদের এখানে তাদের আর কাজ নেই। মিয়ানমারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মিয়ানমারকে তাদের লোকদের মধ্যে আস্থা আনাতে হবে। এই দায়িত্ব মিয়ানমারের, আমাদের না। বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু না হলেও এই প্রক্রিয়া চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে আলোচনা সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সবচেয়ে বড়ো প্রভাব ছিল বাংলাদেশের অগ্রগতি পিছিয়ে পড়া ও দেশের উন্নয়নে ধীরগতি আসা। আওয়ামী লীগের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালে থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে আমাদের মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ। আর বিগত ১০ বছরে আমাদের গড় প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৬ দশমিক ৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ।

‘রোহিঙ্গাদের বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারব না’

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন গতকাল শুক্রবার বিকেলে সিলেট পৌঁছে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, রোহিঙ্গাদের আর বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ানো সম্ভব না। তাদেরকে নিজ দেশে ফিরে যেতেই হবে। মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গাদের আস্থা অর্জনে পদক্ষেপ নিতে হবে। রোহিঙ্গা নেতাদের রাখাইন নিয়ে ঘুরিয়ে দেখানোর প্রস্তাব দেব মিয়ানমারকে। সেখানে ১০০টি বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে চীন। ২৫০ বাড়ি বানিয়েছে ভারত। এসব নেতাদের দেখালে তারা হয়তো ফিরে যেতে রাজি হবে।