বৈষম্য কমাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৩৪

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) ২০৩০ বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার উপর জোর দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। একই সঙ্গে বাস্তবভিত্তিক গবেষণার কথাও বলছেন তারা। তারা বলছেন, এসডিজির ১৭টি অভীষ্টের মধ্যে উন্নয়নের প্রায় সবকিছুই রয়েছে। এগুলোর শতভাগ বাস্তবায়ন অনেকটাই দুরূহ। কিন্তু আমরা চেষ্টা করতে পারি। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য পূরণ করতে পারি আমরা। দেশে প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেও ধনী দরিদ্রের বৈষম্য কমেনি, বরং বেড়েছে। তবে সবার আগে দেশে বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এজন্য যথাযথ বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও বিনিয়োগ এই ছয়টি অধিকার বাস্তবায়ন করতে পারলে এসডিজির অনেক অভীষ্ট বাস্তবায়ন হয়ে যাবে বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির (বিইএ) উদ্যোগে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ২০৩০’ শিরোনামে আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা স্কুল অব ইকনোমিকস্ এবং পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এম তাফাজ্জল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি সভাপতি অধ্যাপক আবুল বারকাত। এতে অন্যান্যের মধ্যে বিইএ সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি রাষ্ট্রদূত মো. আব্দুল হান্নান ও এ জেড এম সালেহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান, অধ্যাপক হান্নানা বেগম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

খলীকুজ্জমান তার প্রবন্ধে এসডিজি বাস্তবায়নের বাধা ও তা দূর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এতে তিনি বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৯২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। আর এসব অর্থ বৈদেশিক সাহায্য থেকে পাওয়ার তেমন কোনো আশা নেই। সুতরাং, এসব অর্থ নিজেদেরই বিনিয়োগ করতে হবে। তাছাড়া দেশে ঠিক মতো বিনিয়োগ হলে এ অর্থ নিজেরাই ব্যয় করতে পারবো। তিনি বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে সবক্ষেত্রে অর্থ লাগবে না। কিছু ক্ষেত্রে নীতিমালা তৈরি করে পথ দেখাতে হবে। তা হলে সাধারণ মানুষই তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। এক্ষেত্রে কাজগুলো করতে হবে সমন্বিতভাবে। গত তিন বছরে দেশে এসডিজি বাস্তবায়নে অনেক কাজ হয়েছে। কিন্তু তা বিচ্ছিন্নভাবে হওয়ায় উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য বাস্তবভিত্তিক গবেষণার উপরও জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সবকিছুর জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকে, কিন্তু গবেষণার জন্য অনেক ক্ষেত্রেই বরাদ্দ নেই। তা ছাড়া যেসব গবেষণা হয় তা অনেকটাই ফরমায়েশি গবেষণা। প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক প্রয়োজনীয় গবেষণা। তিনি সম্পদের অপচয় রোধ করার সুপারিশ করেন।

এম তাফাজ্জল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, আমাদের সংবিধানে সবার জন্য সমান অধিকারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেশে বৈষম্য বাড়ছে। ধনীরা আরো ধনী হচ্ছে আর দরিদ্রদের তেমন উন্নয়ন হচ্ছে না। এ সময় তিনি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ছাড়পত্র কবিতাটি পড়ে শোনান। পরে বলেন, বড় প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় পরবর্তী প্রজন্মের উপর কি প্রভাব পড়বে তা আমাদের সকলকে ভেবে দেখতে হবে।

আবুল বারকাত বলেন, এসডিজির ১৭টি গোলের মধ্যে আরো ১৭৩টি লক্ষ্য রয়েছে। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রায় সবকিছুই বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। সুতরাং, আমার কাছে মনে হচ্ছে এটি সম্ভব নয়। তারপরও কিছু বিষয় অভীষ্টের মধ্যে নেই। যা আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হয় কিন্তু সমাজের বৈষম্য দূর করতে তা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির সংখ্যা যতই বাড়ুক তাতে উন্নয়ন সম্ভব নয়, যদি না ডিস্টিবিউটিভ জাস্টিস না থাকে। এটি এখনও কোন লক্ষ্যের মধ্যে দেখছি না। সুতরাং সামাজিক বৈষম্যও দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে। এখনও দেশে চৌধুরি, সৈয়দ ইত্যাদি বংশ পরিচয়ের বৈষম্য রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিবছর একটি দিবসকে উদ্যোক্তা দিবস হিসেবে পরিপালন করা এবং ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লিংকেজ স্থাপন জরুরি।