দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার বাজার যশোরের রাজারহাট। ঈদের পর দ্বিতীয় সপ্তাহের হাটে চামড়ার বাজার কিছুটা চাঙ্গা হলেও ট্যানারি মালিকদের নিয়ে ক্ষুব্ধ ফড়িয়া ও আড়তদার।
শনিবার ঈদ পরবর্তী দ্বিতীয় সাপ্তাহিক হাটে চামড়ার সরবরাহ ছিল প্রচুর। প্রথম হাটে চামড়া না উঠলেও এদিন প্রায় ৩০ হাজার চামড়া বাজারে ওঠে। বিক্রি হয়েছে নগদ দামে। আকার ও মান ভেদে প্রতিটি চামড়া সাতশ থেকে এক হাজার একশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ট্যানারি মালিকরা সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা, ঋণ সুবিধা নিয়ে চামড়া কিনছেন বাকিতে। কোটি টাকা বকেয়া রাখছেন বছরের পর বছর।
সাতক্ষীরার আবুল হাশেম বলেন, ঈদের পরপরই শিল্পমন্ত্রী কাঁচা চামড়া রফতানির যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, তা কার্যকর করা গেলে প্রতিটি চামড়া তিন হাজার টাকায় বিক্রি করা যেতো।
আরও পড়ুন: চাটমোহরে ডেঙ্গুজ্বরে গৃহবধূর মৃত্যু: হাতকড়াসহ পালানো আসামি ফের গ্রেফতার
কুষ্টিয়ার মো. আনসার আলী বলেন, ১৫ বছর আগের চেয়ে এখনকার চামড়ার মান ভালো। তাহলে কেন চামড়ার দাম কমবে? খুলনার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, চামড়ার বাজারে যদি ধসই হয়, তাহলে দুই বছর আগে ভারতে যে চামড়ার দাম ছিল পাঁচশ টাকা, সেই চামড়া আমাদের এখানে বিক্রি হয়েছে বারোশ টাকায়। আজ আমাদেরটা পাঁচশ টাকায় নেমে এসেছে। আর আমাদের চেয়ে খারাপ চামড়া হওয়া সত্ত্বেও ভারতের চামড়ার দাম পনেরোশ টাকা।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্ক্রিন অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সদস্য ঢাকার পোস্তার আড়তদার আব্দুল হালিম এ প্রতিবেদককে বলেন, হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে ট্যানারি নেওয়ার পর আমরা আন্তর্জাতিক বাজার হারাই। ট্যানারি মালিকদের কাছে শুধুমাত্র পোস্তার ৭৫ জন আড়তদাররা ১৫৩ কোটি টাকা পাবেন। রাজারহাটে শনিবার যে দামে চামড়া বিক্রি হয়েছে, ঢাকায় চামড়ার সেই দাম নেই।
ইত্তেফাক/অনি
