বাবার ফেসবুক যাত্রা

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ২০:৩৬

হঠাত্ আমার বাবার মাথায় ভূত চাপল তিনি ফেসবুক চালাবেন!

আমি একাধারে বিরক্ত, আতঙ্কিত। কেন তাকে ফেসবুক চালাতে হবে! বেশ কিছুদিন ভালোই বিরক্ত করলেন। অগত্যা খুলে দিলাম আইডি!

আইডি খুলে তাকে প্রাথমিক জ্ঞান দিলাম। তার মনে হলো প্রথমেই আমার আইডিখানা ফ্রেন্ডলিস্টে অ্যাড করা অতি জরুরি। আঁতকে উঠলেও চেহারায় অপ্রকাশিত রাখলাম। যথাসম্ভব হাসিমুখে নিজের আইডিখানা বাঘের খাঁচায় দিলাম!

এরপর কয়েকদিন কী যে বিরক্ত! রিকোয়েস্ট পাঠায় কিভাবে, মেসেজ করে কিভাবে, লাইক, কমেন্ট, শেয়ার!

আমার মাথা খারাপ করে দিয়েছে। যাক তাও ভালোয় ভালোয় মিটে গেল! এরপর শুরু হলো নতুন অশান্তি!

‘ফেসবুকে এসব কী লেখো? কিসের ফিলিং লাভ? এত ঘন ঘন ছবি আপ্লোড করো কেন?’

আমার মনে তখন বেজে চলেছে, আমি বন্দি কারাগারে...

উপায় না পেয়ে বাবার আইডিতে লগইন করে আমার আইডি আনফলো করে রাখলাম। বাবা না বুঝলেও টের পেলেন কিছু একটা করেছি।

মোবাইল নিয়ে কাছে এসে বললেন, ‘আইডি খুঁজে বের করে কিভাবে দেখিয়ে দাও তো। তুমি আগে কোথাও লাইক, কমেন্ট করলেও দেখতে পেতাম। এখন পোস্ট করলেও পাই না।’

আমি মহাবিরক্ত হয়ে বললাম, ‘আমার আইডি দিয়ে আপনি কী করবেন?’

বাবা মুচকি হেসে বললেন, ‘তুমি ফেসবুকে কী করো সেটা দেখার জন্যই তো আইডি খুলেছি!’

আচ্ছা এই ব্যাপার তাহলে!

বাবাকে ব্লক করে দুঃখী দুঃখী মুখ নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে বললাম, ‘বাবা আমার আইডিটা নষ্ট হয়ে গেছে!’

বাবা খুশি হয়ে বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ!’

আমার কষ্ট দেখে বাবা খুশি। বাবার ফেসবুক যাত্রার সমাপ্তি ঘটিয়ে আমি মহাখুশি!

ফারজানা ববি

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাবি।